ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন

দেড় যুগ পর স্ত্রী- সন্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ায় জামিন

বিয়ের দেড় যুগ পর কারাগার থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ায় মিলল জামিন। মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. ইসলামকে (৩৬) জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, আমরা বিষয়টি নজরদারিতে রাখছি। স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে আসামির আচরণের ওপর নির্ভর করবে তার সাজা কমানো হবে কি না। আগামী ২৯ আগস্ট এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ঝিনাইদহের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আজিজ মৃধার ছেলে মো. ইসলাম ও আবুল কাসেমের মেয়ে মালা। পরিবারের অজান্তে ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহে স্থানীয় মৌলভীর উপস্থিতিতে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেন। মালা গর্ভবতী হয়ে পড়লে পরিবারের চাপে সেই বিয়ে অস্বীকার করেন ইসলাম। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারি মালা এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তার নাম রাখা হয় মিলন (১৮)। এ পরিস্থিতিতে মালার পিতা আবুল কাসেম বাদী হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ও ১৩ ধারায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচার চলাকালে মিলন ও ইসলামের ডিএনএ টেস্ট করা হয়। এতে দুই জনের ডিএন মিলে যায়।

২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ধর্ষণ মামলায় ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। সে দেড় যুগ ধরে কারাগারে আছে, ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট সাজা বহাল রাখে। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি। ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। সাজার এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন আসামি পক্ষ। ঐ পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় দেড় যুগ পর। গত ৩১ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে দুই জনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। কাবিননামায় নেওয়া হয় ইসলাম ও মালার স্বাক্ষর। যার সত্যায়িত অনুলিপি দাখিল করা হয় আপিল বিভাগে। একইসঙ্গে আদালতে হলফনামা দিয়ে বলা হয়, মালা খাতুনকে মেনে নিয়েছে ইসলামের পরিবার। গত ৮ জুলাই আজিজ মৃধা এক টুকরো জমিও তার নামে লিখে দিয়েছে। এছাড়া ইসলাম তার সন্তান মিলনকে অনেক ভালোবাসে। সে একাধিকবার তার পিতার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে সাক্ষাত্ করেছে। সেই হিসেবে আসামির সাজা বহাল রাখার কোনো সুযোগ নেই। আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করে। শুনানিকালে মালা, মিলন তার দাদা ও নানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।