রিজওয়ান ও রউফকে ছাড়াই পাকিস্তানের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল নির্ধারণ 

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল নির্ধারণ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) পাকিস্তানি গণমাধ্যম সামা টিভিকে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই দলে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে বাদ পড়েছেন তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং গতিদানব হারিস রউফ। 

অন্যদিকে, বিগ ব্যাশে খুব একটা ভালো সময় না কাটলেও বাবর আজমের ওপর আস্থা বজায় রেখেছেন নির্বাচকরা। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টের জন্য পাকিস্তান তাদের শক্তিশালী বহর সাজালেও প্রধান দুই তারকার অনুপস্থিতি ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, হারিস রউফকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান কোচ মাইক হেসনের আপত্তিতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে রউফের হতাশাজনক পারফরম্যান্স তার বাদ পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই ম্যাচে তিনি মাত্র ৩.৪ ওভারে ৫০ রান খরচ করেছিলেন এবং কোনো উইকেট পাননি, যার ফলে ভারত সহজেই শিরোপা জিতে নেয়। 

রউফ বর্তমানে বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে আসরের সেরা একাদশে জায়গা পেলেও জাতীয় দলের হয়ে এশিয়া কাপের সেই ব্যর্থতা তার বিশ্বকাপ যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, রিজওয়ানের ফর্মহীনতাও নির্বাচকদের নতুন বিকল্প ভাবতে বাধ্য করেছে।

পাকিস্তানের এই নতুন স্কোয়াডে ব্যাটিং বিভাগকে শক্তিশালী করতে সালমান আলী আগা, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, ফখর জামান এবং শাদাব খানের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে। তরুণ ব্যাটার খাজা নাফেও তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সুবাদে দলে ডাক পেয়েছেন। 

অলরাউন্ডার হিসেবে ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ নওয়াজকে রাখা হয়েছে এবং স্পিন আক্রমণে থাকছেন আবরার আহমেদ ও উসমান খান। পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহ, যাঁদের সঙ্গ দেবেন উসমান তারিক ও সালমান মির্জা। এছাড়া রিজার্ভ বা ‘জিরো লিস্ট’-এ রাখা হয়েছে ওয়াসিম জুনিয়র, আবদুল সামাদ ও হাসান আলীকে, যাতে টুর্নামেন্ট চলাকালীন কেউ চোট পেলে তারা দ্রুত স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন।

পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ ‘এ’-এর এই চারটি ম্যাচই কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হবে। 

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, পিসিবি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই এই তালিকায় পরিবর্তন আনতে পারবে। যদিও বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্কোয়াড ঘোষণা করেনি, তবে ভেতরের খবর অনুযায়ী এটিই হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল। এখন দেখার বিষয়, বড় তারকাদের ছাড়াই বাবর আজমের দল বিশ্বমঞ্চে কতটা দাপট দেখাতে পারে।