ভারতের অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে পারল না মধ্যস্থতা কমিটিও। তাই বিষয়টি নিয়ে ৬ আগস্ট থেকে একটানা শুনানি হবে। শুক্রবার অযোধ্যা নিয়ে মধ্যস্থতা কমিটির রিপোর্ট নিয়ে ছয় মিনিটের শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানেই এ কথা জানান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তিনি বলেন, মধ্যস্থতায়ও কোনো সমাধান বের করা সম্ভব হয়নি।
২০১০ সালে অযোধ্যা মামলার শুনানিতে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট যে রায় দেয় তাতে ২ দশমিক ৭৭ একরের ওই জমি হিন্দু মহাসভার রাম লাল্লা সংগঠন, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং নিমরোহি আখড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করে দিতে বলা হয়। কিন্তু আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন জমা পড়ে। গত ৮ মার্চ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এফএম ইব্রাহিম কলিফুল্লার নেতৃত্বে আধ্যাত্মিক গুরু রবিশঙ্কর এবং আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চুকে নিয়ে তিন সদস্যের বিশেষ মধ্যস্থতাকারী কমিটি গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট। সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বার করতে বলা হয়। কিন্তু কমিটি সমঝোতায় পৌছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৫২৮-’২৯ সালের মধ্যে তৈরি বাবরি মসজিদ যেখানে অবস্থিত, অযোধ্যার সেই জায়গায় আগে হিন্দু মন্দির ছিল এবং সেটি ভেঙেই মুঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয় বলে বহুদিন ধরে দাবি করে আসছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। ১৯৯২ সালে দলবল নিয়ে গিয়ে বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয় তারা যাকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দু’হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। - আনন্দবাজার পত্রিকা