৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মেলা 

মাঘী সপ্তমী উপলক্ষে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় শুরু হয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মেলা। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার সুতাবাড়িয়া গ্রামের দয়াময়ী মন্দির প্রাঙ্গণে কালী পূজা ও শিব পূজার মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় দিনভর মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে আলোকসজ্জা ও জনসমাগমে মেলাটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

এবারের মেলায় শিশুদের জন্য রয়েছে নানা রঙের আকর্ষণীয় খেলনার দোকান। পাশাপাশি বসেছে পল্লী এলাকার কারিগরদের হাতে তৈরি বুনন শিল্পের সামগ্রী, গৃহস্থালির ব্যবহার্য তৈজসপত্র, মাটির তৈরি বাসন, হরেক রকম মিষ্টান্ন ও খাবারের দোকান। এসব দোকানে সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

মূলত মানতের পূজা ও দেবতার তুষ্টি লাভের আশায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দয়াময়ী মন্দিরে সমবেত হন। এ মেলাটি এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু। একই সঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের জন্য আনন্দ ও মিলনমেলার এক অনন্য উপলক্ষ।

তবে এ বছর নদীভাঙনের কারণে মেলার স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক ভক্ত ও দর্শনার্থীকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। মেলার বৃহত্তম আঙিনার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আয়োজন সীমিত পরিসরে করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থীর আগমনে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন আজও সগৌরবে তার বিচিত্র রূপ ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করে আছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত অনেক দর্শনার্থী এখানে এসে নয়ন জুড়ান এবং আত্মিক প্রশান্তি লাভ করেন। গভীর রাত পর্যন্ত মেলার বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের সমাগম থাকে বলে মেলা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

তবে মন্দির সংস্কার ও মেলার পরিসর সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা না থাকায় ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন আয়োজক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

দয়াময়ী মেলা একদিকে দেবতার তুষ্টি লাভের সাধনা, অন্যদিকে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের মানুষের আনন্দ ও মিলনমেলার অনন্য ক্ষেত্র। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক ভাবদর্শন, দেব-দেবীর গুণকীর্তনের সমন্বয়ে এ মেলা যেন মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের এক শাশ্বত উৎস।