নওগাঁর টিটিসিতে (কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাসের নামে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে পরিচালিত তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) মো. রাশেদুজ্জামান।
সম্প্রতি নওগাঁর টিটিসিতে ড্রাইভিং কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের পরীক্ষায় পাশ করার নামে প্রতিজনের কাছ থেকে দুই হাজার করে টাকা নেওয়ার বিষয় সংবাদকর্মীদের দৃষ্টিতে আসলে দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অন্যান্য গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিশেষ করে গত ১৫ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ প্রকাশের পর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক গঠন করা তদন্ত দল ১৯ জানুয়ারি নওগাঁ টিটিসিতে এসে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। তদন্তের পর এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও আচরণমূলক তদারকি আরও কড়া করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কোর্স কমিটির সভাপতি জান্নাত আরা তিথি জানান, কোর্স শেষে পরীক্ষায় পাস করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ-এর অফিস কঠোর নজরদারীতে রেখেছে। অফিসে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজস্ব পরিচয়পত্র গলায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেবাগ্রহীতা ছাড়া কেউ অফিসে প্রবেশ করতে পারবে না এবং টিটিসির সকল কার্যক্রম একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা মনিটরিং করা হচ্ছে।
টিটিসি ড্রাইভিং কোর্সগুলোতে সাধারণত ৩–৪ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেখানে হালকা ও ভারী গাড়ি চালানো, ট্রাফিক নিয়মকানুন এবং গাড়ির প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ শেখানো হয়। এই প্রশিক্ষণ দেশের ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য কার্যকর বলে বিবেচিত।
নওগাঁর প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, পরীক্ষায় ফেল না করার জন্য কোর্সের সঙ্গে জড়িতদের বাধ্য হয়ে পরীক্ষার আগে কিছু টাকা প্রদান করতে হয়েছে। এই টাকা দিয়ে কোর্স শেষে ছোটখাটো আয়োজন করা হয় এবং অবশিষ্ট অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এই প্রথা বহুদিন ধরে চলে আসছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিআরটিএ ও টিটিসিতে সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।