ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার প্রতিনিধিদের দিল্লিতে হেনস্তা করা হচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিল্লিতে পৌঁছে বঙ্গ ভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় দিল্লি পুলিশের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
মমতা স্পষ্ট করে বলেন, তিনি দিল্লিতে কোনো আন্দোলন করতে আসেননি, বরং ন্যায়বিচারের দাবিতে এসেছেন। দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার বা ভয়ভীতি প্রদর্শন বরদাশত করা হবে না।
দিল্লি পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাংলা সফরের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বাংলায় যান, তখন তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অথচ বাংলার প্রতিনিধিরা দিল্লিতে এলে তাদের কালো গালিচা দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ বাংলার মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে এবং তাদের অপমান করা হচ্ছে। মমতা বলেন, “এই দেশে আর কেউ লড়াই না করলেও আমি এবং আমার দল এককভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।”
সোমবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এই দলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট, বৈষম্যমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে দলটি। তাই সশরীরে উপস্থিত হয়ে দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম চলছে। এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার কথা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া