বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সারা দেশে মোট ১১টি ক্রিকেট হাব গড়ে তুলতে যাচ্ছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আগেই এ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এবার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বিসিবির গ্রাউন্ডস বিভাগের প্রধান খালেদ মাসুদ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাসুদ জানান, প্রথম ধাপে চালু হওয়া ৮টি ক্রিকেট হাবে মোট ১৩৭টি উইকেট তৈরি করা হবে।
প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্রিকেট হাব চালু হচ্ছে, সেগুলো হলো— খুলনা, বরিশাল, ফতুল্লা, কক্সবাজার, বগুড়া, রাজশাহী, বিকেএসপি ও পূর্বাচল।
বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী উইকেট বণ্টন হবে— খুলনা: ১৫টি, বরিশাল: ২৩টি, কক্সবাজার: ৮টি, বগুড়া: ১০টি, রাজশাহী: ১২টি, ফতুল্লা: ১৩টি, বিকেএসপি (৩ ও ৪ নম্বর মাঠ): ১৯টি ও পূর্বাচল: ১৩টি। অনুশীলন, মূল ম্যাচ ও আউটার মাঠে ব্যবহারের জন্য এসব উইকেট আগামী মে–জুন মাসের মধ্যেই তৈরি করা হবে বলে জানান খালেদ মাসুদ।
উইকেট প্রস্তুতের দায়িত্ব স্থানীয় কিউরেটরদের ওপরই থাকবে বলে জানান বিসিবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “কিউরেটরদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করেছি। বিসিবি থেকে আমরা শুধু সাপোর্ট দেব—হয়তো মাটি দেওয়া বা প্রয়োজনীয় সহায়তা। মূল কাজটা স্থানীয় কিউরেটররাই করবেন এবং দায়িত্বও তাঁদের কাছেই থাকবে।”
বিসিবির মতে, এই উইকেটগুলো তৈরি হলে খেলার পরিবেশ উন্নত হবে, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি বাড়বে এবং ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে হাবগুলোতে বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া হবে— রোলার, ঘাস কাটার মেশিন, পিচ কাভার, উইকেটের মাটি ও কংক্রিট উইকেট।
প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম স্থানীয় ক্রিকেট একাডেমি, স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের মাঠে সাময়িকভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাসুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবি পরিচালক আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “ক্রিকেটীয় দিক থেকে এটি একটি বিশাল উদ্যোগ। যদি আমরা জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারি, তাহলে আগামী মৌসুম থেকেই ঢাকার বাইরের জেলাভিত্তিক লিগগুলো খুব ভালোভাবে আয়োজন করা যাবে।”
বিসিবির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রিকেট উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।