কাহাদের হাতে একে-২২ রাইফেল?

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহূত হইতেছে একে- ২২ রাইফেল। রোমানিয়ায় তৈরি এই রাইফেল হইতে ব্যবহারকারী চাইলে একটি গুলি করিতে পারিবে, আবার সে চাইলে একই সহিত ত্রিশ রাউন্ড গুলিও করিতে পারিবে। এমন একটি মারণাস্ত্র ঢাকায় প্রায়শই ঢোকা খুবই উদ্বেগজনক। পত্রিকার সংবাদ হইতে জানা যায়, রাজধানীতে গত এক মাসে দুইটি একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করা হইয়াছে। উল্লেখ্য, হলি আর্টিজানে হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের হাতে ছিল এই রাইফেল।

পুলিশ সূত্রমতে, গত ২৬ জুলাই খিলগাঁও হইতে একে-২২ রাইফেল, রিভলবার ও পিস্তল উদ্ধার করা হইয়াছে, যাহা সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করিবার জন্যই আনা হইয়াছিল বলিয়া ধারণা করা হইতেছে। গত ৩০ জুন রাজধানীর ওয়ারীর ওয়ান্ডারল্যান্ডের সামনে হইতে আরও একটি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করিয়াছে সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। পুলিশ সূত্র হইতে জানা গিয়াছে, গত ছয় মাসে আরও তিনটি একে-২২ অটোম্যাটিক রাইফেল হাতবদল হইয়াছে। চলতি বত্সর মার্চ মাসে একটি ডাকাত চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতারের পর তাহাদের নিকট হইতে পাওয়া তথ্য নিয়া রামপুরায় অভিযান চালাইয়া নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী-বাংলাদেশ (হুজিবি)-এর দুই সদস্যকে গ্রেফতার  করা হয়। তাহাদের নিকট হইতে গোয়েন্দা পুলিশ একটি অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল, পাইপগান ও গুলি উদ্ধার করে। এইসব সূত্র হইতে অনুধাবন করা যায়, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান বেকারিতে যে একে-২২ রাইফেল ব্যবহার করিয়াছিল জঙ্গিরা, পুরান ঢাকার ওয়ারী ও খিলগাঁও হইতে উদ্ধার হওয়া রাইফেলের একটি যোগসূত্র থাকিতে পারে। ইহা ছাড়া ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায়ও অভিযানের পর পুলিশ কর্মকর্তারা জানিতে পারেন, একটি একে-২২ অটোম্যাটিক রাইফেল লইয়া পালাইয়া গিয়াছিল এক জঙ্গি। পার্বত্য চট্টগ্রামেও এই ধরনের অস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলি ব্যবহার করিয়া থাকে।

অর্থাত্ কোনো সময় দেখা যাইতেছে যে, এইসব অস্ত্র জঙ্গিরা ব্যবহার করিতেছে, আবার কোনো কোনো সময় সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করিতেছে। প্রশ্ন হইল, এইসব অস্ত্রের উত্স বা এইসব অস্ত্র আসে কোথা হইতে; গডফাদারই কে বা কাহারা? এর সদোত্তর মিলিতেছে না, যাহা খুঁজিয়া বাহির করা জরুরি।

বাংলাদেশ উন্নতির দিকে অগ্রসরমান। আর এই উন্নতির পূর্বশর্ত হইল আইনশৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণ করা। জনসমক্ষে যে কয়টি ভয়ানক প্রকৃতির এই রাইফেল পাওয়া গিয়াছে, তাহা আমাদের উদ্বিগ্ন করিয়া তুলিয়াছে।  অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করিয়া থাকেন, এইসব অস্ত্র চোরাচালানিতে শুধু দেশের মধ্যেই নয়, দেশের বাহিরের কিছু যোগসূত্র রহিয়াছে, যাহা আরও ভয়ংকর। তাই এই রাইফেল বা দুই-একটা ঘটনা ছোটো একটি ক্ষত ভাবা উচিত হইবে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এই ক্যানসার সারা জাতিকে ছাইয়া ফেলিতে পারে। তাই সময় থাকিতে সাবধানতা অবলম্বন করিতে হইবে।