নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ি আংশিক) আসনে নির্বাচন ঘিরে মাঠ গরম করে তুলেছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এবার দখল নিতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াত। পাশাপাশি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনও দৃশ্যমান প্রচারণা চালাচ্ছে। জেএসডি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্য কয়েকটি দল সীমিত আকারে গণসংযোগ করছে।
চাটখিলের ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন এবং সোনাইমুড়ির ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৪৭৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪১টি। এ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপির প্রার্থী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ.এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি এর আগে তিনবার এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনি নিয়মিত জনসভা, কর্মীসভা, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘু ভোটারদের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। কেন্দ্রভিত্তিক টিম গঠন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকা বিএনপি-সমর্থক অনেক কর্মীও এলাকায় ফিরে নির্বাচনী তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফ উল্লাহ এ আসনে নতুন মুখ হলেও দলীয়ভাবে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় নারী কর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতীকভিত্তিক ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে। জামায়াতের দাবি, তারা আগে থেকেই সাংগঠনিকভাবে মাঠে কাজ করছে।
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম (সিআইপি) শোডাউন ও বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এলাকায় মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। সোনাইমুড়ি অঞ্চলে তার বাড়ি হওয়ায় স্থানীয় ইস্যুতেও তিনি সমর্থন পাচ্ছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে দুই প্রধান প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে।
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা সাইফ উল্লাহ অভিযোগ করেন, তার প্রতিপক্ষ বিএনপি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে, মহিলা কর্মীদের বাধাদান ও হেনস্থা করছে। তার সমর্থক ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করেছে।
তবে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার খোকন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কোথাও প্রতিপক্ষের প্রচারণায় বাধা দেয়নি; বরং পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে অধ্যক্ষ রেহানা বেগম (তারা) মাঝে মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির নুরুল আমিন (নাঙ্গল), ইনসানিয়া বিপ্লব বাংলাদেশের মশিউর রহমান (আপেল) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মমিনুল ইসলাম (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের তৎপরতা খুব বেশি চোখে পড়েনি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত মূল লড়াইটি বিএনপির ব্যারিস্টার এ.এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাইফ উল্লাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থীও ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারেন।