মধুপুুরে কলেজ ছাত্রী কামরুন্নাহার ইতি নিহত হওয়ার পাঁচ দিন পর হত্যা মামলা নিয়েছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী, দেবর ও শ্বশুর-শাশুড়িকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ইতির স্বামী আব্দুল জলিল, শ্বশুর মেছের আলী, শাশুড়ি জহুরা বেগম এবং দেবর জুয়েল হোসেন।
নিহতের বাবা আব্দুল কদ্দুস গতকাল বাদী হয়ে মধুপুর থানায় ওই চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
জানা গেছে, গোপালপুর সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়তেন কামরুন্নাহার ইতি। গত মে মাসে মধুপুর উপজেলার ভট্টবাড়ী গ্রামের মেছের আলীর ছেলে আব্দুল জলিলের সঙ্গে ইতির বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য অত্যাচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ইতির কলেজ পড়ুয়া দেবর জুয়েল হোসেন প্রায়ই তাকে যৌন হয়রানি করত। পারিবারিকভাবে একাধিকবার সেটি নিয়ে বৈঠক হয়। যৌতুক দাবি ও দেবরের যৌন নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে ইতি স্বামীর কর্মস্থল ঢাকায় গিয়ে থাকার প্রস্তাব দেন। গত ৩০ নভেম্বর ইতি ঢাকা যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট বুকিং দেন। কিন্তু রাত সাড়ে দশটার সময় ইতির শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোনে জানান ইতি গাছে দড়ি লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
ইতির আত্মীয়-স্বজনরা বাড়ি গিয়ে দেখেন যে ইতিকে জামগাছ তলায় ওড়না দিয়ে ঢেকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। গলায় কোনো ফাঁসের দাগ নেই। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের দাগ রয়েছে। হত্যার সুস্পষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মধুপুর থানা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পুলিশ গতকাল সন্ধ্যায় খুনের মামলা নেয়।