বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৮ ‘ময়ূরপঙ্খি’ ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলার পাঁচ মাস পার হলেও তদন্তের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য বা এই ছিনতাই প্রচেষ্টার পেছনে অন্য কোনো কারণ যুক্ত আছে কি না, সে বিষয়েও নতুন কিছু জানা যাচ্ছে না।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিমানটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বিমানটি ১৩৪ জন যাত্রী ও ১৪ জন ক্রু নিয়ে ঢাকা থেকে আকাশে ওঠার পরপরই পলাশ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি ককপিটে প্রবেশ করে পাইলটকে অস্ত্রের মুখে জানিয়েছিল যে সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সাবেক স্ত্রী অভিনেত্রী সিমলার সঙ্গে কথা বলতে চান। এই পরিস্থিতিতে বিমানটি বিকাল ৫টা ৪১ মিনিটে শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। রাত সোয়া ৭টার পর সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা বিমানটিতে অভিযান পরিচালনা করে। বিমানের ভেতরে অস্ত্রধারী ঐ ব্যক্তিকে তার ছিনতাই প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়। তাকে কমান্ডোরা আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে সে রাজি না হওয়ায় গুলি করা হয়। মাত্র আট মিনিটের এই অভিযানে অস্ত্রধারী ঐ ছিনতাইকারীকে আহত অবস্থায় বিমান থেকে নামিয়ে আনা হলেও পরে সে মারা যায়। তবে বিমানের যাত্রী ও ক্রুদের কোনো ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য সর্বশেষ কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম চট্টগ্রাম ইউনিটের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার ইত্তেফাককে বলেন, তার কাছে তেমন কিছু ছিল না। শুধু একটি ব্যাগ পলাশ বহন করছিল। সেটি সিজার লিস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম চট্টগ্রাম ইউনিটের পরিদর্শক এবং এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া জানান, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। পলাশ আহমেদের সাবেক স্ত্রী সিমলা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে রাজেশ বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, তার সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। তবে মামলার তদন্তে সেই সব কথাবার্তার কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, এ সম্পর্কে রাজেশ বড়ুয়া বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে ঢাকা বিমানবন্দরের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তথ্য ডেস্ক থেকে ইত্তেফাককে বলা হয়, ‘ময়ূরপঙ্খি’ যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে।