মিয়ানমার থেকে আসছে ট্রলার বোঝাই গরু-মহিষ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে ট্রলার বোঝাই গরু-মহিষ আসছে। এসব পশু শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় তোলার পর পাইকারি দামে কিনে নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপারীরা। এতে প্রচুর রাজস্বও আদায় হচ্ছে। এগুলো দেখতে দেশীয় গরু-মহিষের মতোই।

শুল্ক স্টেশন সূত্র মতে, বৈরি আবহাওয়া ও মিয়ানমারের সমস্যার কারণে বেশকিছুদিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। কিন্তু আগস্ট শুরুর পর পরই পুরোদমে সমুদ্রপথে ট্রলার বোঝাই কোরবানির পশু আসছে। গত দুই দিনে ২ হাজার ২১২টি গরু, ৬১৬টি মহিষ এসেছে মিয়ানমার থেকে। এতে ১৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা রাজস্ব পেয়েছে সরকার। পশু আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম জানান, শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে সারা বছর মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানি হয়ে থাকে। তবে ঈদুল আজহার সময় বাড়তি চাহিদা থাকায় অধিকসংখ্যক গবাদি পশু আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। এখানকার গবাদি পশু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-কুমিল্লাসহ সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। তবে পশু রাখার কোনো সুব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শনিবার দুটি ট্রলারে প্রায় ২৫০টি গরু-মহিষ এসেছে বলে জানিয়েছেন পশু আমদানিকারক সোহেল। তিনি জানান, দেশের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পরিমাণ কোরবানির পশু আমদানি করছি। ঈদ আসতে আরো কয়েকদিন সময় রয়েছে। তার ভেতরে আরো কয়েক হাজার পশু আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। টেকনাফ শুল্ক কর্মকর্তা মো. ময়েজ উদ্দীন বলেন, মিয়ানমার হতে আসা গরু-মহিষ থেকে ৫০০ ও ছাগল হতে ২৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। ঈদকে সামনে রেখে আমদানিকারকদের আরো বেশি মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করতে উত্সাহিত করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আজিজ মওলা চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের গরু সাইজে ও দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মতো। কিন্তু দেশীয় গরুর চেয়ে দাম বেশ কম। ফলে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের গরুর চাহিদা আছে। মিয়ানমারের আকিয়াব, মন্ডুসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরু-মহিষের চালান নিয়ে আসেন দেশের ব্যাপারীরা। টেকনাফে বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে মিয়ানমার থেকে পশু বোঝাই ট্রলারে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে সতর্ক নজর রয়েছে বিজিবির। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পশু আমদানি নির্বিঘ্ন করতে বিজিবি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পশুর সঙ্গে অস্ত্র, মাদক এবং রোহিঙ্গাও যেন আসতে না পারে, সে বিষয়েও বিজিবি সতর্ক রয়েছে।