সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার সিইসি বরাবর দেয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়েছে। বুধবার নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে সিইসি বরাবর মোট চারটি চিঠি জমা দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি দুই দিনে সম্পন্নের দাবি করেন আলাল। আলাল বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের ওপর আপিল বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে ৮ ডিসেম্বর শেষ হবে। আমরা বলছি ৬ ও ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা যায় কিনা। অথবা নির্বাচন কমিশন নিজেদের বিবেচনা প্রসূত কোনো পদ্ধতিতে অতিদ্রুত সম্পন্ন করতে পারে কিনা। আলাল কারণ উল্লেখ করে বলেন, ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৮ ডিসেম্বর ৫টা পর্যন্ত যদি আপিল শুনানি চলে তা হলে অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রার্থীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।
নেতাকর্মীদের আটক-গ্রেপ্তার, হয়রানি বন্ধ : নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানি বন্ধে সিইসি দেয়া চিঠিতে বলা হয়, রাজনৈতিক সংলাপে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন। ইসির সঙ্গে সংলাপেও এ আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে বিএনপির ওই চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনী মাঠে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য এবং ভয়-ভীতিহীন পরিবেশে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে নেতাকর্মী-সমর্থকদের গায়েবী অজুহাতে অন্যায় আটক, গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে জিজ্ঞাসা :প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে ইসির কাছে কিছু বিষয় স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বিএনপি। আরপিও’র ১৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে একটি আসনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের দুই বা ততোধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ফরম আছে কিনা এবং ফরম না থাকলে দলের প্যাডে পত্র আকারে প্রদান বৈধ বা গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সে বিষয়টি জানতে চেয়েছে দলটি।
জোটের ১১ দলকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ : মোট ১১টি দলকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার বিষয় নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছে বিএনপি। ১৫ নভেম্বর ইসিকে অবহিত করে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছিল দলটি। গতকালও ওই চিঠির একটি অনুলিপি ইসিতে দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি ছাড়া অন্য দলগুলো হচ্ছে— গণফোরাম, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।