রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা কমাতে বিশ্ববাসীর প্রতি ভারতের আহ্বান

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে সৃষ্ট ‘মানবিক বোঝা’ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট- আসিয়ান থেকে প্রকাশিত এ বছরের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উদারতার স্বীকৃতি দিয়ে এ আহবান জানিয়েছে ভারত।

ব্যাংককে আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) ২৬তম সম্মেলনে প্রকাশিত ২০৬ পৃষ্ঠার ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সমর্থন বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়নের অংশীদার। পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘস্থায়ী অগ্রগতি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ভারত।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, সামরিক সম্পর্ক ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো, উন্নত পরিবহন সংযোগস্থল নির্মাণ (স্থল, সমুদ্র, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমানপথ) এবং জনগণের সহজ চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে ভারত ও বাংলাদেশ। অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও মিয়ানমার দুই দেশের মধ্যে সুরক্ষা বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে সহযোগিতা করছে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি পরামর্শ করার বহুপক্ষীয় ফোরাম হচ্ছে এআরএফ। আসিয়ানের সভাপতি হিসেবে থাইল্যান্ড সরকার এ বছরের এআরএফ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। শুক্রবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এআরএফ সম্মেলনে ২৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন ও ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও সুরক্ষার সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এআরএফ সদস্যদের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ সহযোগিতা চান।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। যাদের বেশির ভাগই ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিধন অভিযানের সময় বাংলাদেশে এসেছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে পাঠানো সম্ভব হয়নি।