কুমিল্লা-৪ আসনে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেছেন। শুনানি শেষে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচনের পর সময় নির্ধারণ করেছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লার সিনিয়র সিভিল জজ ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান তাফরিমা তাবাসুমের আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সশরীরে হাজির হয়ে এ জবাব দাখিল করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তাফরিমা তাবাসুম স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে মুন্সীকে আজ বেলা আড়াইটার মধ্যে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানি শেষে মঞ্জুরুল মুন্সীর আইনজীবী ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মিসবাহ জানান, তার মক্কেল একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। অভিযোগে উত্থাপিত বক্তব্য তিনি দেননি এবং কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তার বা তার সমর্থিত কোনো ফেসবুক আইডি থেকে প্রচারিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকতে পারে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই ও ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
এ বি এম হামিদুল মিসবাহ আরও জানান, আদালতে তাদের বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি নির্বাচনপরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করেছেন। এ ছাড়া মুন্সীর বিরুদ্ধে আগের কিছু অভিযোগের প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান এই আইনজীবী।
গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই আসনের গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়বো না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি মূলত কথার কথা ছিল। উঠান বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় গভীর রাতে। আমি সকাল ৯টা থেকে সারা দিন নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি। অত্যন্ত ক্লান্ত অবস্থায় কথার কথা বলতে গিয়ে এমন বক্তব্য চলে এসেছে। এর বাইরে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করছে।’
এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের সব পদ থেকে ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
দল বহিষ্কার করলেও আজীবন বিএনপিকেই সমর্থন করবেন বলেন জানান মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তিনি বলেন, বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি আমৃত্যু বিএনপির পক্ষেই কাজ করব। আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনে ট্রাক প্রতীককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।