মন্ত্রীর ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য

মিয়ানমারের দূতকে তলব করে ঢাকার প্রতিবাদ

বাংলাদেশ ও ইসলাম নিয়ে মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রী থুরা উ অং কো’র ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোঃ খুরশেদ আলমের দপ্তরে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন ও’কে তলব করে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রীর মন্তব্যের জন্য দেশটিকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে বলেছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে বর্ণবাদী নীতি অনুসরণ করতো।  নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারও একই নীতিতে চলছে। গত ২৭ নভেম্বর দেশটির ধর্মমন্ত্রী থুরা অং কো এক শেষকৃত্যানুষ্ঠানে ইসলামের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘উগ্রবাদী ধর্ম’ বৌদ্ধ ধর্মের জন্য হুমকি। তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এক বিয়েতে অভ্যস্ত এবং তাদের এক বা দুটি সন্তান রয়েছে। উগ্রপন্থী ধর্ম তিন কিংবা চার বিয়ে আর ১৫ থেকে ২০টি সন্তান ধারণে উত্সাহ দেয়। তিন, চার, পাঁচ দশক পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দেশে বৌদ্ধ সম্প্র্রদায়ের লোকজন সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে দেশটি অর্থ উপার্জন করছে এবং তাদের রাখাইনে ফিরতে দিচ্ছে না। 

এর প্রেক্ষিতে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের মন্তব্য মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত হানে, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যর্থতার দায় বাংলাদেশের ওপর চাপানো প্রসঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশকে আর্থিক, সামাজিক ও প্রতিবেশগত মূল্য দিতে হচ্ছে। কাজেই বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনে বাধা দিচ্ছে এটা ভিত্তিহীন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে তারা রাখাইনে ফিরতে চাইছে না।