রায়পুরে খামারিদের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

স্থানীয়ভাবে পালন করা পশুতেই মিটবে কোরবানির চাহিদা

 এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দেশীয় খামারিরা পশু বিক্রির সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এখন তারা কোরবানির পশু বিক্রির সময় গুনছেন। আর দেশীয় পশুতে এবারের কোরবানির চাহিদাও মিটবে বলে আশা করছেন তারা।

জানা যায়, গত বছর ভারতীয় গরু কম আসায় দেশি গরু ভালো দামে বিক্রি হয়েছে। তাই অনেকে গত বছরের চেয়েও এ বছর লাভের আশায় খামারে ৮ থেকে ১০টি গরু বেশি পালন করছেন। তবে এ বছর ঈদকে সামনে রেখে গরু চুরি ও ডাকাতির আতঙ্কে তারা রাত জেগে খামার পাহারা দিচ্ছেন।

খামারিরা জানান, গত ঈদের চেয়ে এবার গো-খাদ্যের দাম অনেকটাই চড়া, তার পরও একটু লাভের আশায় সে খাদ্যের জোগান দিয়ে কোরবানির গরু প্রস্তুত করেছেন তারা। যদি বিদেশ থেকে কোরবানির পশু দেশে না প্রবেশ করে, তাহলে তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত লাভ হাতে আসবে। তাই গত মাস থেকে গরুর খামারেই দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। গরু মোটাতাজা করতে ঘাসের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। খামারের এসব গরু দেশের প্রান্তিক এলাকা থেকে ছয় থেকে আট মাস আগে কিনে এনে তা ঈদে বেশি দামে বিক্রির জন্য মোটাতাজা করছেন বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় পশুপালন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। নজরদারির কারণে খামারিরা পশুগুলোকে স্টেরয়েডে-জাতীয় ওষুধের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপায়ে হূষ্টপুষ্ট করছেন। রায়পুরে গত বছর কোরবানিতে পশু জবাই করা হয়েছিল প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজারের মতো। এবার কোরবানির জন্য রায়পুর উপজেলা থেকে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। সে হিসেবে এবারও বাইরের পশু ছাড়া চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার খামারি এনায়েত উল্যা ও আলম মিয়া জানান, কোরবানির ঈদ সামনে রেখেই তারা গরু পালন করে থাকেন। এসব গরু বিক্রির উপার্জিত টাকা দিয়েই সংসারের যাবতীয় খরচসহ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটানো হয়। দেশের বাইরে থেকে গরু আসলে আমাদের মতো ছোট খামারিরা পথে বসতে হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মুকবুল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর চাষি ও খামারিরা পশুর দাম খুব ভালো পাওয়ায় রায়পুরে পশুপালনে সফলতা এসেছে। কোরবানির ঈদে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বেশি পশু মজুত রয়েছে খামারিদের কাছে। পশু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।