নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার ও উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ : এইচ টি ইমাম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার ও উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ, আর অন্য কোনো দল নয়। আর এটি শুরু করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সুতরাং আপনারা সাংবাদিকসহ সকলে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য সহায়তা করুন।’

গতকাল বুধবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নির্বাচনী প্রচার উপ-কমিটির নিয়মিত সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, নির্বাচনী প্রচার উপ-কমিটির সদস্য তারেক সুজাত, চিত্র নায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস, সাকিল খান, অভিনেত্রী শমী কায়সার, অরুনা বিশ্বাস প্রমুখ।

‘ইসিকে ছোট করলে তার অধীনে নির্বাচন করছেন কেন?’

বিএনপিকে উদ্দেশে করে এইচটি ইমাম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ছোট করলে, তার অধীনে নির্বাচন করছেন কেন? নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশনই পরিচালনা করছে। সরকার তো রুটিন কাজের বাইরে কিছুই করছে না। সরকারের দায়িত্ব নিরাপত্তা বিধান করা, সেটা তো আমরা করবই এবং নির্বাচন কমিশন যখন যা যা বলার তাই বলছে, আমরা কিন্তু কোনো কথা বলি না। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ৭ লাখ সিভিল অফিসার অংশগ্রহণ করবে, নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে সেনাসহ প্রায় ১০ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এত বিশাল বাহিনী, এত কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে যে নির্বাচন কমিশন তাকে আমরা ছোট করব? তার মর্যাদা রক্ষা তো আমরাই করবো। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) তৈরি করেছিলেন উল্লেখ করে এইচটি ইমাম বলেন, সেই আরপিওর ওপর নির্ভর করে এখন পর্যন্ত নির্বাচন হয়ে এসেছে। আর সেই আরপিওতে যত ধরনের সংশোধনী এসেছে, সব আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগ চায় নির্বাচন কমিশন এমন একটি উচ্চতায় থাকুক, যেখানে কেউ তাকে স্পর্শ করতে না পারে। আমরা তাকে সেই সম্মান দিতে চাই।

বিএনপিতে জঙ্গি এবং তাদের মদদ দাতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এ সদস্য বলেন, ২০০৩-০৪ সালে বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে যারা প্রকাশ্যে গাছে ঝুলিয়ে মানুষ হত্যা করে, সেসব লোককে নিয়ে রাজশাহী শহরে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে যারা, তাদের মধ্যে বিএনপি নেতা নাদিম মোস্তফা, আবু হেনা, নাটোরের দুলু ছিলেন। এরা প্রত্যেকেই এবার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী। এইচটি ইমাম বলেন, বিএনপি থেকে ২৬ জন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১৫-২০টা করে জঙ্গিবাদী মামলা আছে। এখন এগুলো যদি রিটার্নিং অফিসাররা বিবেচনা না করেন, তা হলে তো আমাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায়। আমরা তো অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করব। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।