রংপুরে বসছে অত্যাধুনিক রাডার

আবহাওয়ার অন্যান্য তথ্যসহ কালবৈশাখীর

আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যাবে

গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

আবহাওয়া অধিদপ্তরের রংপুর কার্যালয়ে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক রাডার। এর মাধ্যমে অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়বে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাসের মাধ্যমে জীবনহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, রাডার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন রাডার স্থাপনের মাধ্যমে কালবৈশাখী, টর্নেডো, সাইক্লোনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাসের আরো বেশি সমন্বিত বিশ্লেষণ দেয়া সম্ভব হবে। একই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও রংপুরে পুরোনো রাডারের পরিবর্তে আধুনিক রাডার স্থাপন করা হবে। নতুন রাডার স্থাপনের মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্তমানে কার্যরত অপর তিনটি রাডারের (কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারে স্থাপিত) সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ স্থাপন করে একই প্লাটফরমে নিয়ে আসবে।

এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৮ কোটি টাকা। প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ২২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা যোগান দেয়া হবে। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)  দেবে ১৮৬ কোটি টাকা। রংপুরের আবহাওয়া, রাডার ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণাগারের প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, রংপুর আবহাওয়া, রাডার ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণাগারের একমাত্র রাডারটি দীর্ঘ সাত বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে প্রায় সাড়ে ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস পাচ্ছে না। বিশেষ করে কৃষকরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, রংপুরের আলমনগরে ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে ২ দশমিক ৫০ একর জায়গায় নিজস্ব ভবনে স্থাপন করা হয় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীন আবহাওয়া, রাডার ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণাগার। প্রতিদিনের আবহাওয়া, ভূমিকম্পসহ নানা দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়ার জন্য ঢাকা অফিসকে সহায়তা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। কিন্তু সাত বছর ধরে রাডারটি বিকল হয়ে রয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে জাপান সরকারের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাডারটি স্থাপন করা হয়। এটি দিয়ে প্রায় ৪৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘন কুয়াশা, আকাশে মেঘের অবস্থা এবং ঘূর্ণিযুক্ত মেঘের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হতো। উত্তরাঞ্চলসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশ কিছু জায়গার মানুষও রাডারটির আওতায় থাকায় সুবিধা ভোগ করত। ১০ বছরের মেয়াদের রাডারটি ২০০৯ সালের পর থেকে নিয়মিত বিকল হতে শুরু করে। ২০১২ সাল পর্যন্ত স্থানীয় প্রকৌশলীরা জোড়াতালি দিয়ে চালিয়েছেন। কিন্তু পরে পুরোনো মডেলের এ রাডারের যন্ত্রাংশ তৈরি না হওয়ায় রাডারটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবহাওয়ায় উত্পত্তি হয় কালবৈশাখীর। এই ঝড়ের আগাম তথ্য দেয় রংপুর আবহাওয়া অফিসের রাডারটি। রাডারটি অকেজো হওয়ায় বর্তমানে এলাকাবাসীকে ঢাকা আবহাওয়া অফিসের বিলম্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে পর্যবেক্ষণাগার, ভূমিকম্পন মেশিন চালু থাকায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না। রাডার কেন্দ্রটি চালু হলে উন্নয়নের একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে তিনি মনে করেন।