স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তারপরও আতঙ্ক কাটছে না টি-বাঁধ নিয়ে। পানি বাড়লেই এটি রক্ষার জন্য শুরু হয় তোড়জোড়। কিন্তু শুকনো মৌসুমে কোনো খবর রাখে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুধু তাই নয়, পুলিশ লাইনের সামনে ২ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ করার পর থেকে গেল দুই বছরে কেবল রক্ষণাবেক্ষণেই খরচ হয়েছে ১ কোটি টাকা। এভাবে প্রতিবছরই বিপুল টাকা গচ্চা যাচ্ছে, কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলা পুলিশের লাইনের সামনে উত্তাল পদ্মায় নৌকায় করে ফেলা হচ্ছে বালুর বস্তা। কারণ, এ স্থানে এবার আঘাত হানতে পারে পদ্মার প্রবল স্রোত এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই বালুর বস্তা ফেলে পানির স্রোতের গতি কমানোর চেষ্টা চলছে। যাতে এখানে এসে ধাক্কা দিতে না পারে। এজন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, ২০১৭ সালে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে ২৫০ মিটার সংস্কার কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও পিছু ছাড়েনি ভাঙন। এখানে ভাঙন ঠেকাতে গত দুই বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে পানিতে। এদিকে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ টি-বাঁধ। নানা কারণে এ বাঁধটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছর পদ্মায় পানি বাড়লেই ভাঙন ঠেকাতে তোড়জোড় শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু স্থায়ী সংস্কার হচ্ছে না।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সরকারের পানি বিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য ড. চৌধুরী সারোয়ার জাহান বলেন, সরকারের বহু প্রকল্পে বিপুল টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় প্রকল্পগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় না। ফলে যখন জরুরি সংস্কারের দরকার পড়ে তখন থোক বরাদ্দ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ী সংস্কার হয় না। এভাবে চলতে থাকায় সরকারের অর্থের অপচয়ও হচ্ছে। তবে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, টি-বাঁধ সংস্কারের প্রায় সোয়া ৬ কোটি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো সাড়া দেয়নি মন্ত্রণালয়। টাকা পেলে স্থায়ী সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।