রোজার শুরুতেই কাঁচামরিচের ডাবল সেঞ্চুরি, লেবু-বেগুন ও ফলের দামে ঊর্ধ্বগতি

সেই চেনা বাজার। চেনা সব দোকানদার। কিন্তু রোজা আসায় সব যেন অচেনা! ইফতার ও সাহরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্রের দামে রীতিমতো আগুন!রোজার দ্বিতীয় দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজার। শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বেশ কিছু দরকারি পণ্য বিশেষ করে লেবু, বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, খেজুর, মুরগি, মাংস ও ফলের দাম লাগামহীন বেড়েছে। 

সারাদিন রোজা রেখে মানুষ ইফতারের টেবিলে একটু লেবুর শরবত আর বেগুনি চায়। কিন্তু সেইটা যেন এখন বিলাসিতা। সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি হালি লেবু মিলতো ৪০-৬০ টাকায়। কিন্তু আজ পণ্যটি যেন মধ্যবিত্তকে চোখ রাঙাচ্ছে। আকারভেদে তিনগুণ বেড়ে ১০০-১২০ ঠেকেছে লেবুর হালি। বেগুনের দামও অনেকটা নাগালের বাইরে। কেজিপ্রতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়। তবে কাঁচামরিচের দামে ক্রেতারা যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতি কেজি ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি, রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে বাজারের এই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির অভাব নেই। আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, দেশি টমেটো ও গাজর কিছুটা কম দামে বিক্রি হলেও রমজানকেন্দ্রিক সবজিগুলোর দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। গোল বেগুনের কেজি ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। প্রতি কেজি শসা ১২০ টাকা এবং খিরা ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচামরিচ ২২০ টাকা কেজি হলেও কাঁচা-পাকা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

মহাখালী বাজারে ফুটপাতে বসে কাঁচামরিচ আর লেবু বিক্রি করছেন আবুল কায়সার। তার কাছে কাঁচামরিচের কেজি ১৬০ টাকা হলেও লেবুর হালি ১২০ টাকা।

তিনি বলেন, তুলনামূলক কাঁচামরিচের দাম কমেছে। কিন্তু চাহিদা থাকায় লেবুর দাম বাড়ছে। কেনা বেশি হওয়ায় বিক্রিও সেভাবে করতে হচ্ছে। এছাড়া দোকানের তুলনায় আমার এখানে কিছুটা সাশ্রয়ী পাচ্ছেন ক্রেতারা। কারণ আমার কোনো ভাড়া লাগছে না। এজন্য লাভের হিসাব-নিকাশও কিছুটা ব্যতিক্রম।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. কাউসার ইসলাম বলেন, চার-পাঁচদিন আগেও আমরা লেবুর হালি বিক্রি করেছি অনেক কমে। এখন যেটা ১২০ টাকার নিচে দিতে পারছি না। ভালো গোল-লম্বা বেগুনের কেজি ছিল ৬০ টাকা। এছাড়া ৭০-৮০ টাকায় কেজিপ্রতি শসা বিক্রি করেছি। কাঁচামরিচের দাম আগের তুলনায় একটু কম। মূলত আমদানি কম থাকায় প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকার কারণেই দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের প্রভাবে ইফতারের আইটেমগুলোর দাম কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

বাজারে মানভেদে ফুলকপি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৮০ টাকা এবং ধুন্দুল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, শিম ৭০-৮০ টাকা এবং শালগম ৪০-৫০ টাকায় মিলছে। লাউ প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা কেজি এবং ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা জহির রায়হান বলেন, ‘ইফতারের প্রয়োজনীয় বেগুন, শসা ও লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নিত্যদিনের এসব সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে মধ্যবিত্তের পক্ষে খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’

সবজি বিক্রেতা আবির রহমান বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সবজির দাম কিছুটা কম আছে। দু-তিনটা আইটেমের দাম বেশি। রোজার প্রথম তো, ৩-৪ দিন গেলেই কমে যাবে। সিজনাল সবজির কিন্তু দাম কম।’

বাজারে লালশাকের আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাক ২০-৩০ টাকা এবং ডাঁটাশাক, কলমি শাক ও পালংশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

উত্তরা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা করিম মিয়া জানান, রমজানে সালাদজাতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। তাই খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

খাদ্যপণ্য বিক্রেতা জাকারিয়া আহমেদ বলেন, চাহিদা বাড়ার আগেই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি না বাড়লে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রত্যাশা সাধারণ ক্রেতাদের। ভোক্তাদের দাবি, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার।