স্পোর্টস রিপোর্টার
বছর ছয়েক আগেও তিনি ছিলেন টেপ টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলে বেড়ানো একজন লাজুক ছেলে। দিল্লিতে গৌতম গম্ভীরকে নেটে বল করতে গিয়ে ভাগ্য বদলে গেছে। তারপর থেকে তরতর করে আইপিএল, ভারতীয় ‘এ’ দল হয়ে চলে এসেছেন জাতীয় দলে।
শনিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্বপ্নের মতো অভিষেক হয়ে গেছে সেই নবদ্বীপ সাইনির। ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়েছেন এবং অভিষেক ম্যাচেই ম্যাচসেরা হয়েছেন এই ২৬ বছর বয়সী তরুণ। ম্যাচশেষে বলছিলেন, এখনো তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, ভারতের হয়ে ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।
ভারতকে জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ৮ রানে তুলে নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২ উইকেট; খালি হাতে ফিরেছিলেন জন ক্যাম্পবেল ও এভিন লুইস। এরপর নিকোলাস পুরান ও কিয়েরন পোলার্ড একটা জুটি করে চোখ রাঙাচ্ছিলেন। এখান থেকে হেটমেয়ার ও পুরানের উইকেট নিজের প্রথম ওভারে পরপর দুই বলে তুলে নেন ফাস্ট বোলার সাইনি।
বোলারদের সম্মিলিত চেষ্টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটকে যায় ৯ উইকেটে ৯৫ রানে। এই সামান্য রান তাড়া করতে গিয়ে অবশ্য বিপদে পড়েছিল ভারত। ৪ রানেই প্রথম উইকেট হারানো কোহলির দল কখনোই স্বস্তিতে ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে এই লক্ষ্যে পৌঁছায় তারা।
ম্যাচের পর কথা বলতে গিয়ে সাইনি বলছিলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, তিনি ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি যখন (শনিবার সকালে) ভারতের ক্যাপ পেলাম, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, এই সেই দিনটা, যেটার জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। আমি ভারতের হয়ে খেলতে পেরেই খুব খুশী।’
ফ্লোরিডার এই উইকেট এমনিতে ছিল ধীরগতির। কিন্তু এখানে সাইনি যেভাবে ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে বল করেছেন, তা মুগ্ধ করেছে ভারতের সিনিয়র পেসার ভুবনেশ্বর কুমারকে। সাইনির প্রশংসা করতে গিয়ে ভুবনেশ্বর বলছিলেন, ‘সে সত্যিই খুব দ্রুত বল করেছে। আমি আগেও যেমন বলেছি, এটা খুব ভালো উইকেট ছিল না। উইকেট একটু ধীরগতির ছিল। কিন্তু আপনি তার বোলিং দেখলে দেখবেন, সে এখানেও খুব দ্রুতগতির বোলার ছিল। সে ১৪৫-১৫০ কিলোমিটারে বল করেছে।’
সাইনির সামনে এদিন সুযোগ ছিল হ্যাটট্রিক করার। সেই সময়টা বলতে গিয়ে সাইনি বলছিলেন, ওই সময় তিনি কোনো চাপ টের পাননি। তবে বোলিং শুরু করার আগে চাপে ছিলেন, ‘শুরুতে আমার আত্মবিশ্বাসটা একটু কম ছিল। অভিষেক নিয়ে আমি একটু চাপে ছিলাম। কিন্তু প্রথম উইকেট পাওয়ার পরই সব চাপ চলে গেছে। এরপর দ্বিতীয় উইকেট পাওয়ার পর আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। আমি মনে করছিলাম, যেন একটা সাধারণ ম্যাচ খেলছি। এরপর যখন হ্যাটট্রিক বলটা এলো, আমি ভাবছিলাম, এতদিন অন্যদের এই বল করতে দেখেছি, এখন নিজেকে করতে হবে। এরপর উইকেট নেওয়ার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।’
ওই সময় হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও পরে কিয়েরন পোলার্ডের উইকেট তুলে নেন সাইনি।