যমুনা অয়েল কোম্পানির চাঞ্চল্যকর দেড় লক্ষাধিক লিটার তেল পাচারের ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের উক্ত তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ছয়জন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে পাচার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন কয়েকমাস পূর্বে জমা দেওয়া হলেও তা ধামাচাপার চেষ্টা চলে। শেষ পর্যন্ত গত ২৪ অক্টোবর যমুনা অয়েল কোম্পানির বোর্ড সভায় তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করা হলে ঐ প্রতিবেদনের আলোকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যমুনা অয়েল কোম্পানির নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, যমুনা অয়েলের পাচার হয়ে যাওয়া দেড় লক্ষ লিটার তেলের মূল্য বাবদ প্রায় কোটি টাকা আদায় করার জন্য গত বৃহস্পতিবার একটি কমিটি গঠন করা হয়। দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে বলা হয়। আজ ঐ কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। যমুনা অয়েলের জেনারেল ম্যানেজার আইয়ুব হোসেনকে প্রধান করে গঠিত ঐ কমিটি প্রথমে কোটি টাকার মধ্যে অভিযুক্ত ৬ জনের কে কতটুকু প্রদান করবেন তা নিরূপণ করবে। নিরূপণের পর তাদেরকে ওই পরিমাণ টাকা প্রদান করতে বলা হবে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, ঐ কমিটি একই সঙ্গে তাদের কতটুকু শাস্তি হওয়া উচিত সে ব্যাপারেও সুপারিশ করবে। কমিটি সূত্রে জানা যায়, তদন্ত প্রতিবেদনে যে, ৬ জনের নাম এসেছে তার মধ্যে অন্তত দুজনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আদায় এবং সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে।
জানা যায়, তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডিপোর এজিএম নূর উদ্দন আহমেদ আল মাসুদ, সহকারী ম্যানেজার প্রিয়তোষ নন্দী, সিনিয়র অফিসার সীর কুমার পাল, অপারেশন কন্ট্রোলার জায়েদ মুরাদ, অপারেশন অফিসার নুরুল আলম ও বাল্ক অফিসার আবদুর রাজ্জাক তেল পাচারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হিসেবে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ অক্টোবর ফতুল্লা ও দৌলতপুর ডিপোর জন্য যমুনার পতেঙ্গাস্থ প্রধান ডিপো থেকে দুটি জাহাজে ডিজেল ভর্তি করা হয়। ফতুল্লা ডিপোর জন্য এমটি মনোয়ারা নামক জাহাজে ভর্তি করা তেলের মধ্যে অতিরিক্ত এক লক্ষাধিক লিটার তেল ভর্তি করা হয়। তদন্তের পর্যায়ে বলা হয়, ওই এক লক্ষ লিটার তেল ভাউচারে করে অন্যত্র দেওয়া হয়। কিন্তু তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে একইদিন খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে নেওয়ার জন্য এমটি রাইদা নামক জাহাজে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার লিটার তেল ভর্তি করা হয়। তদন্ত পর্যায়ে ডিপ বুক ও লোডিং পার্টিকুলামে কাটাছেঁড়া দেখা যায়। এতে প্রথমদিন এক ধরনের লেখা থাকলেও পরের দিকে তা কেটে কম দেখানো হয়। এমনকি উক্ত ঘটনা জানাজানি হওয়ার এক পর্যায়ে ওই জাহাজটিকে র্যাব দৌলতপুর এলাকা থেকে আটক করে।
যমুনা অয়েল কোম্পানির তেল পাচারের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও যমুনা অয়েল কোম্পানি কর্তৃক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান ডিপোর সার্বিক দায়িত্বপ্রাপ্ত এজিএম নূর উদ্দিন আহমেদ আল মাসুদ, সহকারী ম্যানেজার (অপারেশন) প্রিয়তোষ নন্দী এবং সিনিয়র অফিসার সমীর কুমার পালকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া আরো কয়েকজনকে শোকজ করা হয়।