এই ব্যর্থতার দায় কে নেবে?

মো. রাফছান আহমেদ

জীবনের প্রয়োজনেই বুঝি কখনো কখনো বেহায়া বনে যেতে হয়। কেউ হয়ে উঠে চরম মাত্রার নির্লজ্জ। জীবনের ষোলোকলার একটা অংশ বুঝি এমন নিকৃষ্টই হয়! হাতেগোনা কয়েকজন সৌভাগ্যবান ছাড়া আর বাকি সবাইকেই এই সমীকরণের মুখোমুখি হতে হয়। হাজার ব্যর্থতার পরেও নিজেকে অব্যর্থ হিসেবে প্রমাণ করার ক্ষীণ আশা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোই জিতে যায় দিনশেষে। হার মেনে নেওয়া ব্যর্থ, ধৈর্যের পরীক্ষায় হেরে যাওয়া মানুষগুলোর পরিণতি হয়, অপয়া, নির্লজ্জ, কাপুরুষ, পাগল নামে। এই হতাশা, ডিপ্রেশন, নির্লজ্জতার জীবন খুবই হূদয়বিদারক এবং আত্মঘাতি। যেটা একটু একটু করে পৌঁছে দেয় মৃত্যুর দুয়ারে।

বলতে কি ডিপ্রেশন কোনো ছোটোখাটো সমস্যা নয়। এটা একটা বিরাট ভয়ানক রোগ। নিজের কাজের বেখেয়ালিপনার বলিদান যেন অন্য কেউ না হয় সেই বিষয়ে সবাই সতর্ক থাকুন। ভুলের বিপরীতে অপমান না করে বুঝিয়ে দেন কোনটা সঠিক। হতে পারে আপনার এই ছোট্ট পদক্ষেপটাই কারো জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। তাই বলছি, হতাশাগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান, এদের একটু সময় দিন। দুঃসময়ে একটু সঙ্গ দিন। কথা দিচ্ছি, আপনাকে ঐ মানুষটা আজীবন মনে রাখবে। ডিপ্রেস্ড মানুষগুলোকে দূরে ঠেলে নয় বুকে টেনে নেন, একটা সুস্থ কল্যাণকর আগামীর পথে এগিয়ে দিন আরো কিছুটা সময়। এতে দেশ উপকৃত হবে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, এই প্রতারক সমাজটাই কিছু মানুষকে অনেক বড়ো করে দেয়। প্রতিবেশীদের সামান্য অপমান কাউকে বানিয়ে দেয় শ্রেষ্ঠ। আশপাশের মানুষগুলোর যত্সামান্য অবহেলা পেরিয়ে কেউ আবার হাজার লোকের ভালোবাসা পায়। এই নষ্ট সমাজের ছোট্ট ছোট্ট অসামঞ্জস্যতাই এনে দেয় পরিকল্পিত সমাজ সৃষ্টির ধারণা। সামান্য পাড়াগাঁয়ের ক্রিকেট এক একটা সাকিব তৈরি করে। চরম বিপর্যয়ে হার না মানা মনোবলই একজন মাশরাফির জন্ম দেয়। প্রিয়জনের কাছে পাত্তা না পাওয়া মানুষটা দিনশেষে একজন বিসিএস ক্যাডার, পাড়ার দুষ্টু ছেলেটাও আজ পরিবারের মধ্যমণি। কারণ, মাস না শেষ হতেই সে চাহিদার অতিরিক্ত টাকা পাঠায়  নিঃসংকোচে।

দিনশেষে ভালো-মন্দ মিলিয়েই আমাদের সমাজ। প্রয়োজনে ভালোটাকে ব্যবহার করা আর খারাপটাকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া সমাজে নিউটন কেমন করে জন্ম নেবে? যত যাই বলেন, সমাজটা আমাদেরই, একান্তই নিজেদের। ভালোর প্রাপ্তি যদি আমাদের হাসায় তাহলে খারাপে চোখে জল না আসাটাও এক প্রকার প্রতারণা। আসলে, সমস্যাটা সমাজের নয়। সেটা আমাদের, হয়তো না জানার, না বুঝার, না দেখার আর নয়তো না শেখার। সমস্যা ডিঙ্গিয়েই তো বড়ো হতে হয়, হবে। সমাজের ভুল, অসামঞ্জস্যতাগুলোকে দুর্বলতা নয় শক্তি হিসেবেই ধরে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটা ভুলের বিপরীতে নিতে হবে একটা করে শিক্ষা। না পাওয়ার হতাশা থেকেই পেতে হবে প্রাপ্তি লাভের কাকুতিমিনতি। অবহেলার বিপরীতে ভালোবাসা দিলেই দিনশেষে এই সমাজ বদলে যাবে। অন্তত কিছু কালো মন নিশ্চয়ই সাদা হবে। আসলে দিনশেষে এই হাত-পা ভাঙা প্রতিবন্ধী সমাজটাই আমাদের প্রাপ্তি, সফলতা, উন্নতির মূল কারণ, এগিয়ে চলার মূল ভিত্তি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, মেরিন সায়েন্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়