ঈদ ঘিরে রাজধানীর মার্কেটে বাড়ছে ভিড়, নারীদের ‘ফারসি ড্রেসের’ চাহিদা তুঙ্গে 

ঈদের বাকি আর সপ্তাহ দুয়েক। এরই মধ্যে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ভিড়। ঢাকার প্রধান মার্কেটগুলোতে বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠছে। তরুণ-তরুণীরা কিনছেন থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি। রাজধানীর মার্কেগুলোর ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এবারও ঈদ ঘিরে নারীদের মূল আকর্ষণ ‘ফারসি ড্রেস’।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত বছরও দেশের ঈদ বাজারে ফারসি পোশাকের দিকে ঝুঁকেছিলেন তরুণীরা। এবারও ঈদ ঘিরে নারীদের প্রধান আকর্ষণ ফারসি পোশাক। মানভেদে চাহিদার তুঙ্গে থাকা এই পোশাক বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

রাজধানীর নিউমার্কেটে ঈদের পোশাক কিনতে এসেছিলেন সিনথিয়া রহমান। তিনি জানান, এই বছরও ফারসি পোশাক কেনার আগ্রহ রয়েছে। এ ধরনের ড্রেসের প্রতি সবার আগ্রহ বাড়ার কারণ হলো পোশাকটি আরামদায়ক ও বাতাস চলাচল উপযোগী।

সম্প্রতি রাজধানীর রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, হকার্স ও নূরজাহান মার্কেটে ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু ফারসি ড্রেস নয়। এবার ঈদের সময়ে সূর্য তাপ ছড়াতে পারে বেশি। তাই সুতি ও আরামদায়ক সিল্ক ত্রি-পিসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খুব বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে বাহারি ডিজাইনের কুর্তি। আর প্রতিবছরের মতো এবারও ‘আভিজাত্যের প্রতীক’ হিসেবে শাড়ির  বেচাকেনা বরাবরের মতোই ভালো।

মেয়েদের কেনাকাটার তালিকায় এবারও রয়েছে দেশি ও বিদেশি থ্রি-পিস। বাজারে দেশি থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ টাকায়। তবে পাকিস্তানি থ্রি-পিসের দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং ভারতীয় থ্রি-পিস ২ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যারা সাশ্রয়ী কেনাকাটা খুঁজছেন, তাদের জন্য ‘কটন ওয়ার্ল্ডে’ তিনটি সুতি থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকায়। আরামদায়ক অগণ্য গজ কাপড়ের চাহিদাও এবার বেশি।

নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা তরুণী মিরা বলেন, ‘আমার সুতি থ্রি-পিস বেশি পছন্দের। সাধ্যের দাম এবং আরামদায়ক হওয়ার কারণেই এবার সুতির থ্রি-পিস কিনবো। ঈদের টুকটাক শপিং শুরু করলাম আবার আসবো।’

শাড়ির বাজারে এবার মিডিয়াম শাড়ি, কাতান ও পার্টি শাড়ির কদর সবচেয়ে বেশি। কাতান শাড়ির দাম ১ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলেও ২ থেকে ৫ হাজার টাকার শাড়ি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পার্টি শাড়ি মিলছে ২ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। ব্লাউজের মধ্যে ‘জিমই চু’ এবং ‘মাল্টি কালার’ ব্লাউজ বেশি চলছে। মানভেদে এসবের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

অন্যদিকে ছেলেদের ঈদ বাজারে প্রতিবারের মতো এবারও পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। দোকানিরা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে সাধারণ মানের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে এবারের বাজারে। তাছাড়া নামিদামি শো-রুমগুলোতে ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা দাম পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি। ঈদকে ঘিরে পাঞ্জাবির বেচাকেনা জমে উঠছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। 

নিউ মার্কেটের পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী মো. আজিম গত শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, ‘আজকে থেকে মোটামুটি বিক্রি শুরু হয়েছে। কেউ কেউ কিনছে, কেউ দাম দেখে যাচ্ছে। কালারফুল ও সফট কাজ করা পাঞ্জাবির প্রতি তরুণদের চাহিদা বেশি। শিশুরা সাদা পাঞ্জাবি পছন্দ করছে বেশি। ইফতারের পর থেকেই বেচাকেনা বেশি হয়।’

রাজধানীর নামী শোরুমগুলোর পাশাপাশি এখন উৎসবের রঙ লেগেছে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। গাউছিয়া, নিউমার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। ঈদ ঘিরে সেখানেও তিল ধারণে ঠাঁই নেই। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা নিজেদের বাজেটের মধ্যে সেরা পণ্যটি খুঁজে নিতে ফুটপাতের এই দোকানগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।