অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন বহু মানুষ। একটি ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযানে জাল ভিসা, ভুয়া চেকসহ প্রতারণার বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম জানান, বিদেশে চাকরির আশায় ধার-দেনা করে ২১ লাখ টাকা জোগাড় করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া যেতে টিভিআই ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দেন ভিসা প্রসেসসহ যাবতীয় কাজ করতে। তবে, এরপরই শুরু হয় হয়রানি।
আবুল কালাম বলেন, ‘অনলাইনে চেক করার পর ভিসা ‘ওকে’ দেখাচ্ছে। ফ্লাইট মিস হওয়াতে আমার সন্দেহ হয়। পরে অস্ট্রেলিয়া অ্যাম্বাসিতে যাই। তখন তারা জানিয়েছেন, এটা ভুয়া ভিসা। তখন থেকেই তাদের মোবাইল বন্ধ পাচ্ছি।’
শুধু আবুল কালাম নন, টিভিআই ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আরও অনেকের। কখনও গুলশান, কখনও বনানী, আবার কখনো-বা মতিঝিলে অফিস চালায় প্রতিষ্ঠানটি।
ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা দেওয়ার পর ভিসার আপডেট জানতে নিজেদের বানানো ভুয়া অ্যাপ চেক করতে বলে এজেন্সিটি। সন্দেহ করলে যোগাযোগ বন্ধ করে অফিস ছেড়ে দেন তারা।
প্রতারণার বিষয়ে মামলা করলে অভিযানে নামে র্যাব। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, রাজধানীর উত্তরার কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৪ জনকে। গ্লোবাল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
র্যাব জানায়, মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা বেতন পাবে বলে প্রলোভন দেখানো হয়। বলা হয়, ২০ লাখ টাকা খরচ করলে ৫ মাসের মধ্যেই টাকা ফেরত আসবে। মূলত গ্লোবাল নামের প্রতিষ্ঠানটিই তাদেরকে ভুয়া ভিসা বানিয়ে সরবরাহ করত। এভাবে তারা ৩০ কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
অভিযানে জাল পাসপোর্ট, ভিসার কাগজপত্র, ভুয়া চেকবই জব্দ করা হয়। র্যাব জানায়, এগুলোর মাধ্যমেই দিনের পর দিন হাজারো ভিসাপ্রত্যাশীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি।