ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়ম-প্রতারণা, কার্যাদেশ বাতিল করলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০০:৫৩

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়ম, প্রতারণা এবং কার্যাদেশের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশ বাতিল, দরপত্র জামানত বাজেয়াপ্ত এবং তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রোববার (২১ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান (চলতি দায়িত্ব) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আসল মেশিনের বদলে ‘ক্লোন’ বা নকল ফটোকপি মেশিন সরবরাহের চেষ্টার অভিযোগে ‘মেসার্স সুখতারা ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশ বাতিল ও দরপত্র জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ‘কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয়’ খাতের বরাদ্দ থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি তোশিবা ব্র্যান্ডের ফটোকপি মেশিন কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়। উন্মুক্ত এই দরপত্রের প্রেক্ষিতে ঢাকার মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার মেসার্স সুখতারা ইন্টারন্যাশনাল (অফিস ইক্যুইপমেন্ট সলিউশন)-এর অনুকূলে গত ১০ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী আসল (Original) ও সম্পূর্ণ নতুন (Brand New) মেশিন সরবরাহের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন ও গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য দিতে ব্যর্থ হয়। এর বদলে তারা একটি ‘ক্লোন’ বা নকল মেশিন গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এই ঘটনাকে কার্যাদেশের মৌলিক শর্তের লঙ্ঘন এবং ‘সুস্পষ্ট প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিষয়টি ক্রয় ও টেন্ডার কমিটির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টিগোচর করা হলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৪(৫) ও ৬৪ (৬) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৩৪(৩) ও ১৪৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দরপত্র বাতিল করা হয়।

একইসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশক্রমে মেসার্স সুখতারা ইন্টারন্যাশনালের দরপত্র জামানত বাজেয়াপ্ত করাসহ বিধি মোতাবেক ওই দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটিকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি এরইমধ্যে রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ইত্তেফাক/এমএস