ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। একটি শহর প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় সাত হাজার অবকাঠামো পুড়ে গেছে। দাবানলের কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন লেডি গাগা এবং কিম কার্দাশিয়ানের মতো হলিউড তারকারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবানলের জন্য বন কর্মকর্তাদের দায়ী করেছেন। খবর সিএনএন ও আল জাজিরা’র
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে আগুন লাগে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়ি শহর প্যারাডাইসের প্লিউমাস ন্যাশনাল ফরেস্টে। শীতের শুল্ক হাওয়া এবং শুকনো ডালপালায় ক্রমশ বিধ্বংসী আকার নেয় দাবানল। স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ভাগ দাবানল নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা। ৬ হাজার ৭ শ’ বাড়ির শহর প্যারাডাইসে ২৬০টি বাণিজ্যিক ভবনসহ ৬ হাজার ৪৫৩টি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। দাবানল প্রধান সড়কের দিকে এতো দ্রুত ধেয়ে আসতে থাকে যে অনেকেই গাড়ি থেকে বের হতে পারেননি।
বিউট কাউন্টির শেরিফ জানিয়েছেন, গাড়ির ভেতর থেকে পাঁচটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনটি দেহ তাদের বাড়ির আঙ্গিনা থেকে এবং একটি বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা কোরি হোনিয়া জানিয়েছেন, শহরের ৮০ ভাগ থেকে ৯০ ভাগ বাড়ি-ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানেই ৩৫ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়র জোডি জোনস জানান, এখানে খুব কম সংখ্যক বাড়ি-ঘর আছে। প্রায় সবই পুড়ে গেছে। এমন দাবানল এর আগে দেখা যায়নি।
শুক্রবার দ্বিতীয় দাবানল লাগে আমেরিকার উচ্চবিত্ত এবং তারকাদের প্রিয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী জনবহুল শহর মালিবুতে। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া উষ্ণ সান্টা অ্যানা হাওয়ার দাপটে সেই দাবানল ধেয়ে যায় লাগোয়া শহর ক্যালাব্যাসাসের দিকে। প্রথমে সড়কের কাছের জঙ্গলে দাবানল লাগলেও কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা পাহাড়ের উপর দিকে উঠতে থাকে। এই শহর দু’টির প্রায় সব বাড়ি বিলাসবহুল। মালিবুতে কয়েকশ’ হলিউড তারকার বাড়ি। এখানেই থাকেন সঙ্গীতশিল্পী লেডি গাগা। ক্যালাব্যাসাসে থাকেন কিম কারদাশিয়ান। গাগা এবং কিমসহ বহু তারকার বাড়িই চলে গেছে দাবানলের গ্রাসে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, এই পরিস্থিতির জন্য বন ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা দায়ী। তারা সতর্ক থাকলে এত বড় দাবানল সৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। তাদের ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। তিনি বলেন, প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার বন ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করা হয়। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।