হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর খাদ্যশস্য আমদানি ঝুঁকিতে

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য প্রধান আমদানি রুট হরমুজ প্রণালীতে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় খাদ্যশস্য সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। গত বছর উপসাগরীয় দেশগুলো প্রায় ৩ কোটি টন খাদ্যশস্য আমদানি করেছে, যার মধ্যে ইরানের হিস্যা ১ কোটি ৪০ লাখ টন। কমোডিটি অ্যানালিটিকস সংস্থা কেপলার জানায়, এ খাদ্যের বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। 

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় অঞ্চলটির খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক জাহাজ বিকল্প পথ বেছে নেয়ায় পুরো অঞ্চলে খাদ্য ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে ইরানের বাজারেও, যেখানে ইতিমধ্যেই খাদ্যের দাম চড়া। খবর এফটি।

কেপলারের বিশ্লেষক ঈশান ভানু বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইরান বড় ধরনের খাদ্য সংকটে পড়বে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কারণে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান হেন্ডারসন বলেন,  ‘এ অঞ্চলে বর্তমানে খাদ্য অনিরাপত্তার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো খাদ্যপণ্যের জন্য আমদানির ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা ইয়েমেন, সুদান ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোও খাদ্যঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে।’

ইরান বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ১০৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকার সব ধরনের কৃষি পণ্য রফতানি নিষিদ্ধ করেছে। কৃষিমন্ত্রী গোলামরেজা নুরি-ঘেজেলজেহ নাগরিকদের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার জন্য অনুরোধ করেছেন।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বাড়তি আমদানির ব্যয় মেটাতে সক্ষম হলেও কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন বেশি ঝুঁকির মুখে। এ দেশগুলোর নিজস্ব গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় তারা সৌদি আরব ও আমিরাতের রুটের ওপর নির্ভরশীল।

সৌদি আরব লোহিত সাগরের বন্দরের মাধ্যমে আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বিকল্প হিসেবে ফুজাইরা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ফুজাইরা মূলত জ্বালানি ও সার রফতানির জন্য তৈরি, তাই বড় পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, বিকল্প পথ ব্যবহার করলে খাদ্য আমদানির খরচ বহুগুণ বাড়বে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের খাদ্য সংকট আরও তীব্র হবে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে।