ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্যও এতে সমর্থন দেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বুধবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২১৫ জন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে এবং ২০৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে বা মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রাখতে হলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটির তাৎক্ষণিক আইনি প্রভাব কতটা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে এটিকে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা বলে সমালোচনা করেছে।
এর পরও প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী জনমতও জোরালো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনকে এখন আরও বেশি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে এর আগেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত মে মাসে সিনেটেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যদিও সেটি এখনও চূড়ান্ত ভোটের মুখ দেখেনি।
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই যৌথ প্রস্তাবটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটেও অনুমোদন পেলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়াই কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে পরবর্তীতে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান সদস্য টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট ও ওয়ারেন ডেভিডসন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একযোগে প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেনও এবার সমর্থন দেন, যদিও অতীতে তিনি অনুরূপ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিলেন।
মিশিগানের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে এবং সেই কর্তৃত্ব রক্ষা করা জরুরি। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিজের বিবেক ও বিশ্বাস অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন এবং এর ফল যা-ই হোক তা মেনে নিতে প্রস্তুত।
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই ভোটকে ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দ্বিদলীয় বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধ ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, বরং জ্বালানি সংকট বাড়িয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
সূত্র: বিবিসি

