দেশে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। যেসব খাতে গ্যাস সরবরাহ করা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে অপেক্ষাকৃত বেশি অবদান রাখতে পারবে, সেসব খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধিকার পাবে শিল্প খাত। সবচেয়ে কম গুরুত্ব পাবে গৃহস্থালি। আর বিদ্যুত্ খাতে বর্তমানে যে হারে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তা অন্তত ১০ শতাংশ কমবে।
দেশে গ্যাস সরবরাহে সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাকৃতিক গ্যাস বরাদ্দ নীতিমালা, ২০১৯ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ওই নীতিমালার একটি খসড়া ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হবে। খসড়া নীতিমালায় এই অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিষয়টি উঠে এসেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতি রয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই। তাই ঘাটতি দূর করতে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে। এ অবস্থায় যেসব খাত বেশি উত্পানশীল কিংবা যেসব খাত বা প্রতিষ্ঠান বৈদিশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম, সেসব খাতে বা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
এক দশক ধরে জিডিপির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির হার বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উত্পাদিত বিদ্যুতের ৬০ শতাংশ গ্যাসনির্ভর। আগামী বছর থেকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুত্ ও ক্যাপটিভ পাওয়ার খাতে মোট গ্যাস সরবরাহের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে খসড়া নীতিমালায় প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের অর্থনৈতিক মূল্য অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ বা বরাদ্দ করা সমীচীন হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২০৪১ সাল পর্যন্ত প্রণীত পরিকল্পনায় খাতভিত্তিক প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে শিল্প, বিদ্যুত্ ও সার খাতকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি দক্ষতা, পণ্য উত্পাদনে বিকল্প জ্বালানির উত্স এবং জাতীয় উত্পাদনশীলতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে গ্যাসের ব্যবহার ও বরাদ্দ নির্ধারণ করা যৌক্তিক হবে।
এছাড়া এলএনজি আমদানির কারণে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। তাই গ্যাসনির্ভর যেসব খাত বা প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সক্ষম, সেগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।