খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় তিন সন্তানের মা এক গৃহবধূকে (৩০) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঐ নারী নিজেই আদালতে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেছেন। এই ঘটনায় গতকাল সোমবার পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই দিন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ঐ নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, খুলনা রেলওয়ে থানা হাজতে রেখে ছয়-সাত জন পুলিশ তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও মারপিট করেছেন মর্মে খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করেন ঐ নারী। আদালত তার অভিযোগ আমলে নিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ করে। সঠিক তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কমিটিকে ঘটনাটি সরেজমিন অনুসন্ধান করে সুস্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী সাত দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী জানান, ঐ নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ধর্ষিতার দুলাভাই শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর জানান, গত ২ আগস্ট শুক্রবার তার ঐ শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠান প্রথমে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর আরো চার জন পুলিশ সদস্য পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় ‘গ্রেফতার’ দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন। তিনি আরো জানান, আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর তার শ্যালিকা থানায় তাকে যেভাবে গণধর্ষণ করা হয়েছে তা তুলে ধরেন। ধর্ষিতার বড়ো বোন অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওসি ওসমান গনি দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় তিনি দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
এদিকে, খুলনা জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি ঐ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়েছিল। সেই মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন বলে শুনেছি। থানায় রাতে তিন জন নারী পুলিশসহ আট জন পুলিশ পাহারায় ছিলেন। সেখানে ধর্ষণের সুযোগ ছিল। মামলা থেকে রক্ষা পেতে ঐ নারী এমন অভিযোগ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।