ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরীকে ব্যাপক মারধর করে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আড়াই হাজার টাকাও হাতিয়ে নেন পুলিশের ঐ কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের খাকচাইল স্কুলের দপ্তরি মো. উবায়দুল্লাহ। এর আগে রবিবার রাতে পুলিশের সদর সার্কেল অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন ও রেজাউল কবিরের কাছে অভিযোগ দেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং নির্যাতনের শিকার ঐ দপ্তরি।
তার চিকিত্সক এ বি এম মুছা চৌধুরী জানান, দপ্তরি উবায়দুল্লাহর কানের আঘাত গুরুতর। প্রচণ্ড আঘাতে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন অভিযোগটি শুনেছেন জানিয়ে বলেন, “তাদের বলেছি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে। জামিরুলের বিরুদ্ধে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতানোর আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে। ‘ধরো-খাও-ছাড়ো’—এই অভিযোগে সে আলোচিত। পুলিশের এক কর্মকর্তাকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দাপটের সঙ্গে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে জামিরুল।”
পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট রাত ১০টার দিকে জেলা সদর উপজেলার ঐ স্কুলে যায় এসআই জামিরুলের নেতৃত্বে ছয় জনের একটি পুলিশ দল। তারা দপ্তরির কক্ষের দরজায় টোকা দিয়ে বশির নামে কেউ আছে কি না, জানতে চান। কেউ নাই বলার পরও উবায়দুল্লাহকে স্কুলের সব শ্রেণির দরজা খুলতে বলেন এসআই জামিরুল। কক্ষগুলোতে কাউকে না পেয়ে পুনরায় উবায়দুল্লাহকে নিয়ে তার থাকার কক্ষটিতে আসে পুলিশ। এসময় আবার তারা পকেট চেক করতে গিয়ে ইয়াবা ট্যাবেলট কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়। এরপরই জামিরুল তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতারের ভয় দেখান। এর আগে একটি কক্ষে নামাজের জন্য ম্যাডামদের রাখা হিজাব ও কাপড় দেখে এসআই তাকে বলেন, তুই নারীর ব্যবসাও করছ। শিশু শ্রেণি কক্ষে শিশুদের বসার জন্য রাখা চাটাই দেখে বলে, এখানে আড্ডা দেছ, নারীর ব্যবসা করছ। এসব বলেই তাকে মারধর করতে থাকেন। এরপর হাতকড়া পরিয়ে বের করার চেষ্টা করেন। এসময় উবায়দুল্লাহর সঙ্গে থাকা তার ভাতিজাকেও আটক করে পুলিশ। উবায়দুল্লাহর হাত থেকে মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসআই জামিরুল এবার টাকা দাবি করেন তার কাছে। টাকার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু তালেবকে ফোন দেন উবায়দুল্লাহর মোবাইল থেকে। আবু তালেব সেখানে এসে উবায়দুল্লাহর পিতা ক্বারি নূরুল ইসলামকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলেন। এই টাকা নিয়ে জামিরুল সেখান থেকে চলে যান। এর আগে উবায়দুল্লাহর পিতার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং এ বিষয়ে কাউকে কিছু বললে উবায়দুল্লাহকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবেন বলে হুমকিও দেন। উবায়দুল্লাহ প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিত্সা নেন।