মিথ্যা ঘোষণায় মদ বিয়ার আমদানির কথা স্বীকার চীনা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের

অবশেষে মিথ্যা ঘোষণায় মদ-বিয়ার আনার কথা স্বীকার করেছে চীনা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানীর নামে আমদানি করা ক্যাপিটাল মেশিনারিজের সঙ্গে আনা মদ-বিয়ারসহ খাদ্যসামগ্রী আটক করা হয়। ক্যাপিটাল মেশিনারিজ সামগ্রী তিনটি লাইটারেজে ভর্তি করার সময়, এর মধ্যে মিথ্যা ঘোষণার ও অবৈধ পণ্যসামগ্রীর সন্ধান পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, বিশাল আকৃতির কাঠের প্যাকেজের একটি অংশ বিশেষ ভেঙে মদের বোতল বেরিয়ে আসলে মদ-বিয়ারসহ অন্য সামগ্রীর তথ্য বেরিয়ে আসে। বড়ো জাহাজ (মাদার ভেসেল) থেকে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানীর মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশ দু’টি লাইটারেজ ভর্তি করার পর তৃতীয় লাইটারেজে ভর্তি করার সময় মিথ্যা ঘোষণা ও অবৈধ পণ্য পাওয়া যায়। এরপর মাদার ভেসেল থেকে বাকি পণ্য তৃতীয় লাইটারেজ জাহাজে ভর্তি করা বন্ধ করে মাদার ভেসেলসহ অপর তিনটি লাইটারেজ জাহাজ কাস্টমস আটক করে। ইতিমধ্যে মাদার ভেসেল থেকে বাকি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস এবং পাওয়ার কোম্পানীর নামে আমদানি করা সকল পণ্যের পরীক্ষা করা হয়। কাস্টমসের ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেতৃত্বে সকল পণ্যের কায়িক পরীক্ষা গতকাল সোমবার সম্পন্ন হয়। পরীক্ষা শেষে যে সকল অবৈধ ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ ক্যান বিয়ার, ১৯৬ বোতল চায়না মদ, ১০০ কার্টুন বিদেশি সিগারেট, ৩৭ হাজার কেজি টাইলস ও ১০ টন খাদ্যসামগ্রী।

এদিকে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানী এবং চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানী লিখিতভাবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনার কথা স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে তাদের ভুল স্বীকার করে কাস্টমসের আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে পণ্য কাস্টমসের নিকট আবেদন করেছে। তাদের পক্ষ থেকে ৬৬৯ প্যাকেজ আমদানি পণ্যের মধ্যে ২৭ প্যাকেজ মিথ্যা ঘোষণার ও শর্তযুক্ত পণ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে। এতে মদ-বিয়ার ছাড়াও মাশরুম, নুডুলস, আচারসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী রয়েছে বলে জানানো হয়। পায়রা বন্দর এলাকায় প্রকল্প স্থলে কর্মরত বিদেশি প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ব্যবহারের জন্য এটি আনা হয়েছে। তবে তাদের পত্রে আলাদা চালানে ওই সকল পণ্য আসার কথা থাকলেও ভুলবশত মেশিনারিজের চালানে পণ্যগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানীর প্রকল্প পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলী শাহ আবদুল মাওলা কাস্টমসের নিকট লিখিতপত্রে পুরো বিষয়টি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জাতীয় স্বার্থে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ দ্রুত ও যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য মালামালসমূহ ছাড়করণের অনুরোধ জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পত্র দেওয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেন, সবকিছু আইনের অধীনে হবে। জানা যায়, যে সকল খাদ্য পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় আনা হয়েছে, সেগুলো নির্দিষ্ট শুল্ক প্রদান এবং জরিমানা প্রদানের মাধ্যমে ছাড় দেওয়া হবে। অপরদিকে মদ-বিয়ার সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক ছাড়পত্র প্রদান করলেই কেবল শুল্ক ও জরিমানা প্রদানের মাধ্যমে খালাস করা যাবে। অন্যথায় বাজেয়াপ্ত করা হবে। বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানীর পক্ষে আমদানি পণ্য খালাসের দায়িত্বে ছিল সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান বিপাশা ইন্টারন্যাশনাল, একই মালিকের অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এর লজিস্টিক সাপোর্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।