স্ত্রীর জানাজায় দাঁড়িয়ে কাঁদলেন অতিরিক্ত আইজিপি

সৈয়দা আক্তারকে রাঙ্গুনিয়ায় দাফন

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সৈয়দা আক্তার (৫৪)। গতকাল সোমবার স্ত্রীর জানাজায় দাঁড়িয়ে কাঁদলেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) শাহাবুদ্দীন কোরেশী। রবিবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পেশাগত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা কোরেশী গতকাল সকালে দেশে ফিরেছেন। মৃত্যুর আগে স্বামীর সঙ্গে আর দেখা হলো না সৈয়দা আক্তারের।

গতকাল রাজারবাগে জানাজায় অংশ নেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ সাধারণ মানুষ। স্ত্রীর জন্য ক্ষমা চাইতে গিয়ে কাঁদলেন কোরেশী। বললেন, ‘আমি যখন পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেই তখন রেশন ছিল না। বাজার করার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পেতাম না। এমন দিন গেছে একটি পেঁয়াজ দিয়েই একদিনের রান্না পার করেছেন আক্তার। তাকে কোনো দিনও দামি পোশাক দিতে পারিনি। যখন সামর্থ্য হয়েছে তখন নিজে কখনো দামি পোশাক কিনতেন না। চারটি সন্তানকে তিনিই মানুষ করেছেন। অনেক কষ্ট করে দিন চালিয়েছেন।’

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) সোহেল রানা জানান, কয়েক দিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন সৈয়দা আক্তার। ররিবার তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সক।

পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম কামরুল আহছান জানান, শাহাবুদ্দীন কোরেশীর চার সন্তানের মধ্যে বড়ো ছেলে আশিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, মেজ ছেলে সাজিদুর রহমান মেডিক্যাল কলেজে ও ছোটো ছেলে আবিদুর রহমান নটর ডেম কলেজে পড়ছেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে। গত ২৮ জুলাই রাতে যুক্তরাষ্ট্রে যান শাহাবুদ্দীন কোরেশী।

গতকাল রাজারবাগে জানাজা শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।