ঈদ সামনে রেখে নির্ঘুম রাত কাটছে দর্জিদের

সেলাই মেশিনের শব্দে মুখর দর্জির দোকানের কারখানাগুলো। কেউ সেলাই করছেন জামা-সালোয়ার, কেউ-বা করছেন হাতে হোম সেলাই, আবার কেউ-বা করছেন পোশাকের ওভারলক। কাজের চাপে এ সময় কারিগরদের রাত কাটছে নির্ঘুম। ঈদের আর বাকি দুই/তিন দিন। রমজানের শুরু থেকে কারিগরদের ব্যস্ততা থাকে। তবে রমজানের শেষ দিকে কাজের চাপে কারিগরদের নাওয়া-খাওয়ার ফুরসত থাকে না।

ঈদের এ সময়টাতে দর্জির মজুরিও থাকে আকাশছোঁয়া। পোশাকের কাপড় ভেদে সেলাইয়ের মজুরি ভিন্ন হয়ে থকে। তবে সর্বনিম্ন থ্রি-পিস সেলাইয়ের মজুরি এবার ঈদ বাজারে ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার কিংবা আড়াই হাজার টাকার বেশি। তবে জায়গা ভেদে দর্জির ডিমান্ড বুঝে মজুরি ওঠা-নামা করে। লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, নিউ মাকের্টের দর্জির দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায় দর্জিদের ব্যস্ততা।

বাবর টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী বাবর আলী বলেন, ‘ঈদের অর্ডার বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। তবে কিছু ধরাবাঁধা কাস্টমার আছে, যারা আমার কাছে ছাড়া কোথায় পোশাক তৈরি করান না। ফলে তাদের পোশাক আমাকে বানিয়ে দিতেই হবে। কারণ তারা আমাদের নিয়মিত কাস্টমার।’

এই টেইলার্সের মাস্টার বলেন, আমাদের মজুরি খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। নরমাল সালোয়ার কামিজের মজুরি ৭০০ টাকা। লাইলিন দেওয়া সেটের মজুরি ১২০০ থেকে ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে। চাঁদনী চক, নিউ মার্কেট ও গাউছিয়া ঘুরে জানা যায়, এখানে থ্রি-পিস তৈরির মজুরি সর্বনিম্ন ৭৫০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। লং ফ্রক স্টাইলের পোশাক তৈরিতে খরচ পড়বে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে ডিজাইনের ওপর মজুরির হেরফের হয়ে থাকে বলে জানান।

দর্জিরা বলছেন, রোজার শুরু থেকেই কারিগররা রাত জেগে কাপড় সেলাই করছেন। এই ব্যস্ততা তাদের চলবে ঈদের চাঁদ রাত ভোর পর্যন্ত। দর্জির মাস্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, সবকিছুর যেমন দাম বেড়েছে; তেমনি কারিগরদের মজুরি বেড়েছে। আগে এক সেট সালোয়ার-কামিজ সেলাই করতে হয়তো ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা লাগত। এখন সেখানে লাগছে সর্বনিম্ন ৪৫০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত।

সেলাই করা পোশাক নিয়েও অনেক গ্রাহকের রয়েছে অভিযোগ। মোহাম্মদপুরের এক নারী গ্রাহক এসে দর্জি মাস্টারকে বলছেন, এই লেইস আপনি হাতায় দিয়েছেন কেন, এটা গলায় লাগানোর কথা ছিল। এখন কীভাবে এটা ঠিক করে দিবেন, দেন। মাস্টার হয়তো ঠিকই বলে দিয়েছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত কাজের চাপে কারিগর ভুল করেছেন। এ নিয়ে মন কষাকষি হয়ে গেল গ্রাহক ও দর্জি মাস্টারের সঙ্গে।

ঐ কাটিং মাস্টার বলেন, এখন একসেট সালোয়ার-কামিজে এত এত এক্সট্রা প্যাসেজ লাগাতে হয় যে, সেই সময়ে আরো একসেট সালোয়ার-কামিজ সেলাই হয়ে যায়। লালমাটিয়া মুন টেইলার্সের মাস্টার মো. রিয়াদুল বলেন, এবারও চলছে লং কমিজ, তবে প্লাজো কাটের পায়জামার সঙ্গে ছোট লুজ কামিজের ট্র-পিস চলছে বেশ। তবে লম্বা কামিজের সঙ্গে স্ট্রেটকার্ট প্যান্টও ভালো চলছে। এছাড়া ফার্সি সালোয়ারের সঙ্গে ছোট টপস পড়ছে তরুণীরা।

এসব জামার গলায় কাজের বেশ চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি জামার গলায় কারুকাজ থাকছে। এতে সুতার কাজ, ইয়োগ, লেইস, ডলার বসানো ও পাথর বসানো কাজ করা, প্রিন্টের ইয়োগ, ভরাট এপ্লিক, কাঁথা স্টিসের কাজের ইয়োক সেট করা, হাতে প্রিন্ট করা, ব্লক, বাটিক করা ডিজাইন রয়েছে কমিজগুলোর মধ্যে। কামিজে পরিচ্ছন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ এমব্রয়ডারি কামিজগুলোকে আরো রুচিশীল করেছে।

এসব পোশাকের বেশিরভাগ গলার কার্টে চলছে বোটগলা ও সোরওয়ানিকার্ট গলা। থ্রি-পিসের ওড়নার মধ্যে শিপনের ওড়নাই চলছে বেশি। কমিজের হাতা শিপনের হয়ে থাকে।