মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় লেবাননে ঈদ অন্যতম প্রধান উৎসব। তবে যুদ্ধ, মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুতির ভারে লেবাননে এবারের ঈদুল ফিতর হয়ে উঠেছে বিষণ্ন। টানা ইসরায়েলি হামলা ও সংঘাতের মধ্যে উৎসবের আনন্দ রূপ নিয়েছে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায়।
চলতি মাসের শুরুতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকে। ধারাবাহিক হামলায় ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
ঈদের দিনও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। রাজধানী বৈরুতে ভারি বৃষ্টির মধ্যে অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েন। শহরের কেন্দ্রস্থলের মোহাম্মদ আল আমিন মসজিদের কাছেই অনেকে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ত্রিপলের নিচে ঈদ কাটাতে বাধ্য হন।
বাস্তুচ্যুতদের একজন সামাহ হজোলা বলেন, আগের ঈদগুলো এখন তার কাছে অন্য জীবনের স্মৃতি মনে হয়। “আগে আমরা পরিবার নিয়ে ঘরে ঈদ করতাম, সন্তানদের নতুন কাপড় থাকত। এখন তাঁবু বা বাসে আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন,” বলেন তিনি।
ঈদের সকালে বৈরুতের আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দে অনেকেই ভেবে বসেন, আবারও শুরু হয়েছে বোমা হামলা।
অন্যদিকে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুদের জন্য গান, বেলুন ও খাবারের ব্যবস্থা করে সামান্য আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালায়। তবে বড়দের জন্য পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাস্তুচ্যুত আরেক ব্যক্তি আবেদ নাসের বলেন, “আমাদের জন্য কোনো ঈদ নেই। আমরা প্রিয়জন হারানোর শোক আর বেঁচে থাকার সংগ্রামের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছি।”
দক্ষিণ লেবাননের সিডন শহরে ঈদের দিন মানুষজন প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করেন। তবে উৎসবের আমেজের বদলে সর্বত্র ছিল নীরবতা ও শোকের ছাপ।
চলমান সংঘাতের মধ্যে লেবাননের সাধারণ মানুষের কাছে এবারের ঈদ হয়ে উঠেছে কেবল আরেকটি বেঁচে থাকার দিন।