নেত্রকোনার মদনে তিয়শ্রী এনএইচ খান একাডেমির দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নেত্রকোনা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হল- উপজেলার কাইটাইল গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সুনিল সরকারের ছেলে কাটিহালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী পলাশ সরকার ও বাস্তা গ্রামের হারুন মিয়া।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, পলাশ সরকারের সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয় সূত্রে প্রেমিক পলাশ বাড়িভাদেরা হাওরে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করার পর রিকশাযোগে বাড়ি পৌঁছে দেয়। বুধবার ঘটনাটি জানাজানি হলে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বিচারের আশায় প্রথমে ইউএনওর কাছে যায়। পরে ইউএনও মেয়েটিকে থানায় পাঠালে ওসি তদন্ত মামলাটি নেন।
ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রী জানান, ‘বাস্তা গ্রামের হারুন মিয়া বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পলাশকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং পলাশের সাথে আমার পরিচয় হয়। এরই সুবাদে মঙ্গলবার মায়ের সাথে উপজেলা সদরে আসলে পলাশ আমাকে ফোন দিয়ে মোটরসাইকেল করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরবে বলে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়িভাদেরা হাওরের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। এ সময় হারুন আমাদের পাশেই ছিল। আমি এর ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় মামলা করেছি।’
আরো পড়ুন: আফগানিস্তানে জোট বাহিনীর বিমান হামলায় ১৯ জঙ্গি নিহত
অভিযুক্ত পলাশ সরকার জানান, ‘আমি মেয়েটিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘুরেছি তবে ধর্ষণ করিনি। বাস্তা গ্রামের হারুনের মাধ্যমে ওই মেয়ের সাথে তার পরিচয় হয় বলে স্বীকার করেন।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, ‘বুধবার রাতে ধর্ষিতা নিজেই বাদী হয়ে পলাশ ও হারুনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
ইত্তেফাক/বিএএফ