ইত্তেফাক রিপোর্ট
আন্দোলনের জেরে শ্রমিকদের ‘অস্বচ্ছ’ প্রক্রিয়ায় চাকরিচ্যুতি ও মামলা দেওয়াসহ বেশকিছু অভিযোগে বাংলাদেশের কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানার সঙ্গে ব্যবসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্যতম বড়ো ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্ক। ঐসব কারখানার সঙ্গে নতুন করে আর কোনো ক্রয়াদেশ দিচ্ছে না আইরিশ এ ব্র্যান্ডটি। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল-বিষয়ক গণমাধ্যম ‘জাস্ট-স্টাইল’ এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলেছে, চলতি বছরের শুরুতে শ্রমিকের মজুরিসংক্রান্ত আন্দোলনের জেরে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এর মধ্যে প্রাইমার্কের ক্রয়াদেশ সরবরাহকারী কারখানাগুলোতে রয়েছে ৪২৭ জন শ্রমিক। এসব শ্রমিকের মধ্যে ৩৮২ শ্রমিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রাইমার্ক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এরপর কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো। তবে কতটি কারখানার সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করা হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। যেসব কারখানার সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করা হয়েছে, সেগুলোর তালিকা কারখানা-মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকেও সরবরাহ করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রাইমার্ক বাংলাদেশের ৯৪টি কারখানার সঙ্গে ব্যবসা করে। এই ব্র্যান্ডের কাছে কারখানাগুলো বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য রপ্তানি করে। কারখানাগুলো শ্রমিকের মামলা প্রত্যাহারসংক্রান্ত ইস্যু, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের তালিকা বাইরে প্রকাশ করায় অন্য কারখানায় তাদের চাকরি না হওয়া, যথাযথভাবে পাওনা পরিশোধ না করাসহ কয়েকটি বিষয়ে অভিযোগ এনে একটি শ্রমিক অধিকার সংস্থা কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ব্যবসা স্থগিত হওয়া কারখানার সংখ্যা খুবই কম। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রাইমার্কের যে ব্যবসা, সেই বিবেচনায় এটি তেমন প্রভাব ফেলবে না। এ সময় তিনি বলেন, ইস্যুটি অনেক পুরনো, গত ফেব্রুয়ারির।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ইস্যুতে অন্য বিদেশি বায়ার ও ব্র্যান্ডগুলোও প্রাইমার্কের পথে হাঁটতে পারে। সেক্ষেত্রে অনেক কারখানা ক্রয়াদেশ হারাতে পারে।