জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি
স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির জন্য ১৮ আগস্ট থেকে ৪০ জন খেলোয়াড় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। বর্তমানে উন্মুুক্ত ট্রায়ালের মাধ্যমে চলছে আগামী বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরটির জন্য খেলোয়াড় পছন্দের কাজ।
অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র এশিয়া কাপে কোন দেশগুলো আসবে সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু স্বাগতিক বলে বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। প্রতিপক্ষ দেশ নিয়ে না ভেবে নিজেদের গুছিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো বড়ো আসর হবে বলে যতটা ভালো করা যায় তা নিয়ে মাথা খাটাচ্ছেন কোচ ও জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় মামুনুর রশিদ।
খেলোয়াড় বাছাই ও অনুশীলনের কাজ চলছে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে। এরই মধ্যে এক দফা বাছাই সম্পন্নের পর ১০০ জন থেকে ৬৫ জনে নেমে এসেছে। এই ক্যাম্প শুরু হয়েছিল ১ আগস্ট। এদের মধ্যে ৫১ জন দ্বিতীয় বিভাগ লিগ থেকে এসেছেন।
কোচ মামুনুর রশিদ বললেন, ‘জুনিয়র এশিয়া কাপ মার্চ এপ্রিলে হবে। এই উন্মুক্ত ট্রায়ালে ১০০ খেলোয়াড় এসেছিল। চার দিনের ক্যাম্প শেষে এখন রয়েছে ৬৫ জন খেলোয়াড়। এই বাছাই ও অনুশীলন চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর সেটা ৩৫-৪০ জনে নেমে আসবে। উন্মুক্ত ট্রায়াল হলেও এরা সারাদেশ থেকে এসেছে। এখান থেকে অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-২১ দুটি দল গঠন করা হবে।’
অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র এশিয়া কাপ সামনে রেখে ট্রায়াল হলেও হকি ফেডারেশন আরো একটি পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে। যারা ট্রায়াল দিতে এসেছে সেখান হতে আরো দুই একটি দল গড়া হতে পারে। এ ব্যাপারে মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এই বাছাইটা বাংলাদেশ জাতীয় দলের পাইপ লাইন হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় দল ছাড়া হকিতে আর খেলোয়াড় কোথায়? খেলোয়াড় নেই। এই কারণে ভালো সাড়া পেয়েছি। ১৮ আগস্ট থেকে ৪০ জন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প করা হবে।’
ভারতের বয়সভিত্তিক ক্লাব টুর্নামেন্টে ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ রয়েছে বাংলাদেশের। সেখানে ১৫টি ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে। চন্ডিগড়ে ৬টা, ভুপালে ৯টা ম্যাচ। মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা যতো বেশি ম্যাচ খেলতে পারি। আমাদের লক্ষ্য এই দলটিকে এশিয়া কাপের আগে ৩০-৪০টা ম্যাচ খেলানো। এখন জাতীয় দলে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এজন্যই এটা করা। বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী, রাজশাহী, রাঙামাটি, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর থেকেও খেলোয়াড় এসেছে।’
কোচ বলেন, ‘এরা ফিজিক্যাললি খুব স্ট্রং। এদের দীর্ঘমেয়াদি গাইড করলে পরের দুই বছরের মধ্যে রেজাল্ট পাওয়া যাবে। এভাবে না শুরু করা হলে খেলোয়াড়রা হারিয়ে যাবে। এটা ফেডারেশনের ভালো উদ্যোগ। দীর্ঘমেয়াদি খেলার মধ্যে থাকলে এরাও অনেক ভালো করবে।’