অ্যাকর্ড যেন পোশাকশিল্পের কাল না হয়!

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রশংসা আছে সর্বত্র। উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধির ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় স্থান দখল করিয়াছে। কিন্তু এই রপ্তানিমুখী বাণিজ্য আপাতদৃষ্টিতে ভালোই চলিতেছে মনে হইলেও খানিকটা মেঘ আসিয়া জড়ো হইয়াছে। কিন্তু এই মেঘ অতি ঘনীভূত হইলে বিধ্বস্ত হইতে পারে আমাদের তিলে তিলে গড়িয়া উঠা তৈরি পোশাক খাত। আর সেই ক্ষেত্রে ক্রেতাদের লইয়া গঠিত সংগঠন অ্যাকর্ড অনুঘটকের ভূমিকা পালন করিতেছে কি না তাহা লইয়া অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক করিতেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাকর্ডের আচরণে এবং অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করায় অসন্তোষ প্রকাশ করিয়াছেন। জানা গিয়াছে, অ্যাকর্ড বিগত দিনে তৈরি পোশাক কারখানাগুলিকে যেইসকল শর্তপূরণ করতে বলিয়াছিল, সেই সকল শর্ত পূরণ করিবার পর এখন নূতন করিয়া আরো শর্ত আরো করিতেছে—যা পালন করা কারাখানাগুলির জন্য প্রায় অসম্ভব। বিজিএমইএ বলিতেছে, ২০১৩ সালে কারখানার ইলেকট্রিক্যাল কন্ডিশন, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বিষয়ে অ্যাকর্ড যেইসকল শর্ত দিয়াছিল তাহার প্রায় সব শর্ত পালন করিয়াছে ফ্যাক্টরিগুলি। কিন্তু অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা লইয়া তাহারা এখন নূতন নূতন শর্ত আরোপ করিতেছে। ২০১৩ সালে প্রাথমিক স্তরে পরিদর্শনের পর যে সকল শর্ত দেওয়ার কথা ছিল অ্যাকর্ড তাহা ২০১৭ সালে আসিয়া দিতেছে, যাহা বাস্তবায়ন এখন সম্ভব নহে। অথচ অ্যাকর্ড কারখানাগুলি ৪ থেকে ৫ দফা পরিদর্শন করিয়াছে। তাহা ছাড়া সেই সময় দেওয়া শর্ত অনুযায়ী কারখানাগুলি যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ক্রয় করিয়াছে। তাহাদের আরো অভিযোগ, নিতান্তই ছোটোখাটো বিষয়ে সমস্যার কারণে কারখানাগুলিকে সতর্ক করিয়া চিঠি দিতেছে। ইহা ছাড়া অ্যাকর্ড ও বিজিএমইএর চুক্তি অনুসারে শর্ত আরোপের পূর্বে দুই সংগঠনের পরামর্শ করিবার কথা। কিন্তু বিজিএমইএর সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করিয়াই ৪০০ কারখানাকে সতর্ক করিয়া চিঠি দিয়াছে অ্যাকর্ড। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসিয়া ১ হাজার ১৩৩ শ্রমিকের প্রাণহানির পর এই অ্যাকর্ড গঠিত হয়। ওই সময় হইতে দেশের ১ হাজার ৬০০ গার্মেন্ট কারখানার মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০০ কারখানাকে সনদ প্রদান করিয়াছে।

নিঃসন্দেহে ইহা একটি অশনিসংকেত। অ্যাকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের তথা উন্নত বিশ্বের কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে কোনো কারখানা বিষয়ে সতর্ক করিলে তাহারা ঐ কারখানা হইতে পোশাক ক্রয় করে না। যদিও অ্যাকর্ড ৫ বত্সর কার্যকর থাকিবে বলা হইয়াছিল, কিন্তু এখন বিচার বিভাগের অনুমতি লইয়া আরো এক বত্সরের জন্য কার্যকর থাকিতেছে। অ্যাকর্ড একটি শ্রমিকবান্ধব ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাপে কারখানাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তাহা তো প্রকারান্তরে শ্রমিককেই ক্ষতিগ্রস্ত করিবে। অ্যাকর্ড সুস্পষ্টভাবে বলিতেছে না কী কী সমস্যা কারখানাগুলির রহিয়াছে। তাহাদের ইহা পরিষ্কার করিয়া বলা উচিত। ভালো করিতে গিয়া যাহাতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে ধ্বংস না করিয়া ফেলে, সেই কথা প্রতিষ্ঠানটির স্মরণে রাখিতে হইবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করিবার কোনো ষড়যন্ত্র যেন অ্যাকর্ডকে ব্যবহার করিতে না পারে সেই দিকেও প্রতিষ্ঠানটিকে লক্ষ রাখিতে আমরা অনুরোধ জানাই।