কুমিল্লায় রেলসেতুতে ফাটল

চরম ঝুঁকিতে রয়েছে কুমিল্লার রাজাপুর-সদর রসুলপুর স্টেশনের মাঝে থাকা ২৫৩ নং রেলসেতুটি। প্রতিদিন এই সেতু দিয়েই ট্রেন পারাপার হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে হতাহত হতে পারে অনেক মানুষ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের অনেকটা মাঝামাঝি অংশে রয়েছে কুমিল্লা। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে প্রতিদিনই চলাচল করে  আন্তঃনগর, এক্সপ্রেস, মেইল, লোকাল, ডেম্যু ও মালবাহীসহ ৩৮টি ট্রেন। সবচেয়ে দ্রুতগতির ‘সুবর্ণ’ ও ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুটিও এই রুটে চলাচল করে।  সরকার রেলপথে নিরাপদ যাত্রী পরিবহনে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করলেও অভিযোগ রয়েছে কখনো কাজ না করে কখনোবা নামমাত্র কাজ করেই বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা লুটে নেয় সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ। এমনই একটি রেলসেতু রয়েছে কুমিল্লার সদর রসুলপুর-রাজাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাঝে রাজাপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ১৬৬/২-৩ কিলোমিটার এলাকায় সেতুটির অবস্থান। এর দৈর্ঘ্য ৪০ ফিট। সরেজমিনে দেখা গেছে, এর উত্তর অংশের দেয়ালে লম্বা ও আড়াআড়ি ফাটল রয়েছে। রেলওয়ের স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসব সেতু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে প্রতি বছর। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। এই সেতু এলাকাতেই পাশাপাশি কুমিল্লার লাকসাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশনের মাঝে ডাবল লাইন প্রকল্পের নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের  কাজ বর্তমানে চলমান। এই সেতুর নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত এক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, সেতুটি খুবই বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। মনে হয় না বিগত চার-পাঁচ বছরে এর মেরামতের কাজ হয়েছে! জানা যায়, কুমিল্লার লাকসাম জংশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশন এলাকা পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার রেলপথের সেতু, কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণে কুমিল্লায় একজন সিনিয়র সাব অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্কস) আছেন। এই রেলপথের সেতুসহ অন্যান্য স্থাপনা মাঝে মাঝে তাঁর দেখভাল রুটিন ওয়ার্ক হলেও তা যে করেননি, সেতুটির দুর্দশাই তার প্রমাণ। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মামশাদ কবীর

সুরভি ম্যানসন, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা