সারা দেশের মানুষ যখন যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে, তখন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী অঞ্চলের প্রায় দশ লাখ মানুষ আধুনিক যাতায়াতব্যবস্থা তো বটেই, ন্যূনতম পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাস্তা থেকে কী লাভ যদি তার ওপর দিয়ে গাড়ি না চলে? এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে বিভাগীয় শহর রংপুর আসে। এই অঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থী রংপুরের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘কারমাইকেল কলেজ’, ‘রংপুর সরকারি কলেজ’সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন বহুসংখ্যক মুমূর্ষু রোগী সেবা নিতে বিভাগীয় শহর রংপুরে আসেন। রংপুরের সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ নিত্যদিনের। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আজ পর্যন্ত ভূরুঙ্গামারী থেকে রংপুর পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করার জন্য সরাসরি বাস সার্ভিস নেই। ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরীর বাসিন্দাদের কুড়িগ্রামে এসে বাস পরিবর্তন করে রংপুর আসতে হয়। এতে একদিকে যেমন অর্থের অপচয় হয় তেমনি সময়েরও। সামান্য ৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে কখনো কখনো চার ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়, যা সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের যুগে অস্বাভাবিকই বটে।
আগে একবার ভূরুঙ্গামারী থেকে রংপুর সিটিং সার্ভিস বাস কয়েকদিনের জন্য চালু হলেও স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী বাংলাদেশের কোনো বিচ্ছিন্ন জনপদ নয়। বন্যা, নদী ভাঙন ও খরায় জর্জরিত এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সরকারকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। নদীর প্রবাহের মতো উন্নয়নের সুফল সর্বত্র পৌঁছে দিতে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে এবং স্বার্থান্বেষী মহলের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। পরিশেষে, অবিলম্বে ভূরুঙ্গামারী থেকে রংপুর পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা হোক। নতুবা সরকারের উন্নয়নের সুফল লাভ করা থেকে এই অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিতই থাকবে।
ডিকো মাহমুদ
নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম