সাবাবের স্বপ্নের ‘সাবাব বাজার’

আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা

ক্যারিয়ার শুরু করেন ফটোগ্রাফি দিয়ে। জিতেছেন দেশি-বিদেশি নানান সম্মাননা, পেয়েছেন খ্যাতি। সম্প্রতি নিজ উদ্যোগে শুরু করেছেন ব্যবসা, নাম দিয়েছেন ‘সাবাব বাজার’। বি এম সাবাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন এমফিল গবেষণারত। ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। ব্যবসার কোনো বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না নিলেও পড়াশোনা শেষ করে বর্তমান চাকরির বাজারে ব্যবসার বিকল্প দেখছিলেন না সাবাব। ব্যবসা উদ্যোগের শুরু থেকে ইচ্ছেটা অনেক বড়ো, একদম আকাশ ছোঁয়ার। কিন্তু চাইলেই এক লাফে আকাশ ছোঁয়া যায় না। তাই ছোটো ছোটো ধাপেই এগিয়ে চলেছেন স্বপ্নপূরণে। সাবাব বাজার ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ, ফাল্গুন, বিয়ে-গায়ে হলুদসহ বিভিন্ন উত্সব অনুষ্ঠানে নিজেরাই পোশাক প্রস্তুত করে, যা তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড। আবার গ্রাহকদের চাহিদা ও রুচি অনুসারে বিদেশি পোশাক আমদানি করে থাকেন। সাবাব বাজার ফ্যাশনে বিশ্বাসী আধুনিক রুচিসম্মত কাজ করে থাকে গ্রাহকদের জন্য।

সাবাবের বাবা আনোয়ারুল ইসলাম ভূঁইয়া ব্যবসার প্রধান আইনবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি পেশায় একজন আয়কর আইনজীবী। মা ফারহানা ভূঁইয়া আফসন্স ল্যাবোটারি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং একজন সুগৃহিণী। ভাই রাইসুল সাইফ একজন (ডাক্তার) সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা।

ব্যবসার শুরু কীভাবে জানতে চাইলে বি এম সাবাব বলেন, ‘দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে গিয়ে ব্যবসা সম্পর্কে কিছু জ্ঞান পাই। আর ছোটো থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা ছিল। আমার অনেক বড়ো ভাই যারা বিসিএস কর্মকর্তা, তাদের সঙ্গে যখনই আড্ডায় আলাপ-আলোচনা হয় সবাই একটা কথাই বলেন, সম্মান আছে সত্য, কিন্তু ভালোভাবে টিকে থাকা দায়। বেতন দিয়ে চলে না। আর ক্রিয়েটিভ কিছু করার ইচ্ছা থাকলে ব্যবসার কোনো বিকল্প নেই। আবার আমাদের দেশে একটা ছেলে অথবা মেয়ে বিবিএ বা এমবিএ শেষ করার পরে চাকুরির যে অফার পাওয়া যায়, তা খুবই লজ্জাকর মনে হয় আমার কাছে। যেখানে শিক্ষার কোনো মূল্যায়ন থাকে না। আর সবাই যোগ্য কিন্তু মনমতো চাকরি খুব কমসংখ্যক মানুষই পেয়ে থাকেন।’

ব্যবসার উদ্যোগের আগে সাবাব ছিলেন একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। এর সঙ্গে ফ্যাশন ফটোগ্রাফির কাজও করছেন টুকটাক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ব্যবসা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাহকদের আগ্রহ দেখে অবাক হচ্ছি। আমার প্রিয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অনেক অর্ডার পাচ্ছি, যা সত্যি আনন্দের। বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা বিভিন্নভাবে               সাহায্য করছেন।’