রেলের পশ্চিম জোনে ২৭৪৫ একর জমি বেদখল!

 ‘অর্থ, লোকবল ও যন্ত্রের অভাবে

উচ্ছেদ অভিযান ব্যাহত’

বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

রেলওয়ের পশ্চিম জোনে ২ হাজার ৭৪৫ একর রেলের জমি অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ লোকবল, অর্থ ও উচ্ছেদ যন্ত্রপাতির অভাবে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে পারছে না।

পশ্চিম রেলের এক ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা যায়, উত্তর পশ্চিম মধ্য অঞ্চলের ২৭টি জেলায় পশ্চিম রেলওয়ের ৩৭ হাজার ৪১৯ দশমিক ৩৫ একর জমি ছড়িয়ে রয়েছে। রেলের পশ্চিম জোনে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলিয়ে ২৪৪টি স্টেশন আছে। বেশির ভাগ রেললাইন ও স্টেশন ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। ব্রিটিশ আমলে জমি অধিগ্রহণ করে রেললাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হয়। রেললাইনের দুই পাশ ও স্টেশনের আশপাশে প্রচুর রেলের জমি রয়েছে।  এসব জমির ওপর এলাকার ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালীদের নজর পড়ে। তারা একটু একটু করে জমি দখল শুরু করে। কেউ প্রথমে টংঘর তুলে রেলের জমি বেদখল করে। তারপর হাটবাজার বসায়, পাকা দালান তৈরি করে। খুলনা, যশোর, পোড়াদহ, ঈশ্বরদী, সান্তাহার, পার্বতীপুর, সৈয়দপুর, লালমনিরহাট, বনারপাড়া ও রাজবাড়ি জংশন স্টেশনের আশপাশের এলাকায় রেলের বেশি জমি বেদখল হয়ে আছে। একবার বেদখল হলে উচ্ছেদ করা কঠিন ব্যাপার। জায়গা খালি করার জন্য রেলের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়। অবৈধ দখলদাররা পরোয়া করে না।

রেলওয়ের পশ্চিম জোনের ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান বলেন, দখলবাজদের উচ্ছেদ করা কঠিন কাজ। গত অর্থ বছরে  রেলের জায়গায় দখল করে নির্মিত ৭ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৭১ একর জমি দখলদার মুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, বুলডোজারের অভাব রয়েছে। এ কারণে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ব্যাহত হয়। উচ্ছেদ সময় অনেক লোকবল লাগে। রেলওয়েতে লোকবলের অভাব রয়েছে। আছে টাকার অভাব। গত অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৫ লাখ টাকা। এ বছরের বরাদ্দ এখনো আসেনি। রেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে রেখেছে। বরাদ্দ পেলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে বলে তিনি আরো জানান।