চার বছরেও জমির কাগজ পাননি বাসিন্দারা

বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়া

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

৬৮ বছরের অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তি পেলেও দীর্ঘ চার বছরে জমির মালিকানা সংক্রান্ত খতিয়ান, মাঠ রেকর্ডের পর্চা ও খারিজের কাগজ না পাওয়ায় জমির ভাগ-বন্টনসহ জরুরি প্রয়োজনে জমি কেনাবেচা করতে পারছেন না ফুলবাড়ীর বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা। ফলে প্রতিনিয়ত জমি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হচ্ছে তাদের। তবে গেজেট সম্পন্ন হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার আয়তন ৬৬৫ হেক্টর। এর মধ্যে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১ হাজার ৬৪৩.৪৪ হেক্টর। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল দুই দেশের ভূ-খণ্ডে যুক্ত হয়। উভয় দেশের নাগরিক হওয়ার সুযোগ পান অবরুদ্ধ ছিটমহলের বাসিন্দারা।

এদিকে বিগত চার বছরে সরকারি-বেসরকারিভাবে দেশের অভ্যন্তরের ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলে সংঘটিত হয় নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসহ চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হলেও জমির মালিকানার কাগজপত্র না পাওয়ায় তাদের জমি সংক্রান্ত মূল সমস্যা এখনো কাটেনি।

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাসিয়ারছড়া ইউনিটের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, গত চার বছরে বর্তমান সরকার যেভাবে দাসিয়ারছড়ায় উন্নয়ন করেছে তাতেই আমরা সরকারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কিন্তু দাসিয়ারছড়াবাসী জমি কেনাবেচা করা থেকে এখনো বঞ্চিত। জমি কেনাবেচা করতে না পারায় ছেলেমেয়েদের বিয়ে, পড়ালেখার খরচ, বৃদ্ধ বাবা-মার চিকিত্সাসহ নানা সমস্যায় আছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাছুমা আরেফিন জানান, দাসিয়ারছড়ার কয়েকটি মৌজার আরএস খতিয়ান পাওয়া গেছে। যাদের খতিয়ান পাওয়া গেছে তারা জমি কেনাবেচা করতে পারবেন। বাকি মৌজাগুলোর কাগজ পেলে অধিবাসীদের জমি কেনাবেচার সমস্যার সমাধান হবে।