বাগেরহাটে ভ্যাকসিনের মজুদ শেষ, ভাইরাসে দিশেহারা খামারি

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রয়োজনের তুলনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদি পশু মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় খামারিরা। এলাকার বিভিন্ন খামার ও গৃহস্থের গোয়ালের গবাদি পশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এই উপজেলায় সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন করা খামারির সংখ্যা ৪৭ জন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পারিবারিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ হচ্ছে ১ হাজার ২২ টি বাড়িতে। মোট পশুর সংখ্যা প্রায় ৭১ হাজার। তবে বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণের কোনো খামার নেই।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, গ্রীষ্মের শুরুতে এলাকার অনেক গবাদিপশুর দেহে ‘ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ’ ভাইরাস নামে একটি রোগ  ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগে গবাদিপশুর দেহে পচন ধরে যাচ্ছে এবং খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফলে আক্রান্ত পশুরা কোনো খাবার খাচ্ছে না। এমনকি উঠে দাঁড়ানোর শক্তি পাচ্ছে না। এ সব পশুর ঠিকমতো চিকিৎসা না হওয়ায় অনেক স্থানে মারা যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অসীম মন্ডল জানান, গত কয়েক দিন  ধরে তার গোয়ালের একটি গবাদি পশু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। অনেক চিকিৎসা করে সেটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই রোগে গরুর দেহের অনেকাংশে পচন ধরেছিল এবং খুব জ্বর থাকতো। এ অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে পহেলা এপ্রিল (বুধবার) সকালে গরুটি মারা যায়। যারা আনুমানিক মূল্য ছিল লাখ টাকার উপরে। 
এছাড়া ওই গ্রামের স্বপন মন্ডল নামে আরও এক ব্যক্তির একটি গরু রোগে মারা গেছে। আবার অনেকের পশু আক্রান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলার ব্রহ্মগতী গ্রামের আশরাফ শেখ জানান, তাদের প্রতিবেশী সেকেন্দার হাওলাদার বক্কর শেখ সহ অনেকের পশু এই  রোগী আক্রান্ত হয়েছে।

উমাজুড়ি গ্রামের অপূর্ব হীরা জানান তাদের গোয়ালের একটি গরু আক্রান্ত হয়েছে। সেটিকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এছাড়া তাদের প্রতিবেশী শশধর হীরার একটি পশু ও আক্রান্ত হওয়ার খবর তিনি জানান।

একইভাবে ধলুইতলার বাসিন্দা আবু সাঈদ শেখ জানান, তার একটি পশু আক্রান্ত হয়েছে। এলাকার অনেকে  জানান এ রোগটি চিতলমারী ও তার আশপাশের উপজেলায় দেখা দিয়েছে এমন খবর এসেছে তাদের কাছে।

শ্রীরামপুর গ্রামের খামারি  প্রভাস বালা জানান, আমার খামারে ছোট বড় ২৫ গরু আছে। খড় ভুসির প্রচুর দাম থাকা সত্ত্বেও লাভের চিন্তা না করে গরু পালন করছি দীর্ঘদিন। এ পর্যন্ত আমি কারো কোনো সহযোগিতা পাইনি। গত কয়েকদিন  আমার খামারে একটি  বাছুর মারা গেছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমার  খামারটি আরও বড় করতে পারতাম।

চিতলমারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহমেদ ইকবাল জানান, এ রোগটির নাম লেম্পি স্কিন ডিজিজ। এটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। বুধবার সকাল থেকে ১০/১২ জন ফোন দিয়ে এই রোগে আক্রা গবাদিপশু আক্রান্তের খবর জানিয়েছে। এ রোগে সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই রোগের ভ্যাকসিন আমাদের কাছে মজুত নেই। যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল সেগুলো শেষ হয়েছে। ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে।