১৯ বছরেও সংস্কার হয়নি সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের

১৯ বছরেও সংস্কার করা হয়নি ঝালকাঠির নলছিটিতে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একটি ব্রিজ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। উপায় না থাকায় পার হতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ সাকোর মাধ্যমে। 

জানা গেছে, প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডরে নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের ভেরনবাড়িয়ায় অবস্থিত জনগুরুত্বপূর্ন একটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লোহার তৈরি ব্রিজটি দিয়ে ভেরনবাড়িয়া গ্রামসহ আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতেন। বাইশ মিটার দৈর্ঘ্যের লোহার ব্রিজটি এরশাদ সরকারের সময় স্থানীয় ভেরনবাড়িয়া খালের উপর নির্মাণ করা হয়েছিল।

ব্রিজটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে একটি সাকো নির্মাণ করে। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বৃদ্ধ মানুষজন সাকো ব্যবহার করে বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সাকো পার হতে গিয়ে খালের ভিতর পড়ে অনেকেই আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

স্থানীয় বাসিন্দা আনিচুর রহমান ও মিরাজুল ইসলাম জানান, রানাপাশা ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হলো ভেরনবাড়িয়া গ্রাম। এই গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি বছরের পর বছর ভেঙে পড়ে আছে অথচ কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমরা নিজেরা উপায় না দেখে একটি সাকো তৈরি করেছি। কিন্তু সাকো দিয়েতো আর যানবাহন চলাচল করতে পারে না। আবার বাঁশ আর কাঠ দিয়ে তৈরি সাকো প্রতি বছরই নাজুক হয়ে যায়। নতুন করে আবারও নির্মাণ করতে হয়। 

আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম রনি জানান, আমাদের গ্রামের প্রায় অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। তার মধ্যে খুব কাছেই আছে উত্তর ভেরনবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের ছোট ছোট বাচ্চারা এই ব্রিজটি না থাকায় সাকো পার হতে গিয়ে নানান দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দুঃচিন্তায় থাকেন। আশেপাশে বেশ কয়েকটি গ্রাম্য বাজার আছে, যেখানের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মালামাল পরিবহন করতেন কিন্তু ব্রিজ না থাকায় তাদের বিকল্প পথ ঘুরে বাজারে আসতে হয়। 
 
এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, আমাদের সঙ্গে স্থানীয়রা যোগাযোগ করে ব্রিজের ব্যপারে জানিয়েছেন। আমরা খুব দ্রুত ব্রিজ সংস্কার করার ব্যপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো।