মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া-কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার ও সরবরাহ লাইনে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় এবং দেশের অভ্যন্তরে তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। 

সচিব জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া থেকে জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় দেশটির ‘পিটি ভুমি সিয়াক পাসাকো জাপিন’ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে; কাজাখস্তান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘এক্সন মবিল কাজাখস্তান’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে; এছাড়া মালয়েশিয়া থেকেও তেল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে।

এইদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে।’ বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে জানিয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করেন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকেও দ্রুত তেল সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার একই সঙ্গে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং রাত ৮টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শপিং মল বন্ধ রাখার মতো কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে। আমদানির এই বিকল্প উৎসগুলো দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।