গেল বছরের অক্টোবরের নির্বাচনের পর থেকেই স্বস্তিতে নেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। নতুন নেতৃত্ব এলেও স্থিতি আসেনি। বরং একের পর এক ইস্যুতে চাপ বাড়ছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট ঘিরে। ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, কার্যত স্থবির হয়ে আছে পুরো কাঠামো। মাঠে না গড়ানোর শঙ্কায় ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্রই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে।
এই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল সকাল ১১টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে বসছে পরিচালনা পর্ষদের সভা। সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে এই সভায় অংশ নেবেন পরিচালকরা। যারা সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তারা অনলাইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সভাটির মূল আলোচ্য বিষয় ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট।
সম্প্রতি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব বিসিবিকে একটি চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির প্রস্তাব ও দাবিগুলোর বাস্তবায়নই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ক্লাব ক্রিকেটের চলমান সংকট কাটাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ঢাকা লিগ আয়োজন নিয়েও আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এর পাশাপাশি নিয়মিত প্রশাসনিক বিষয়গুলোও থাকবে আলোচনায়। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়েও কথা হবে। আন্তর্জাতিক সূচি সামনে রেখে দলের প্রস্তুতি, ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা গুরুত্ব পাবে এই বৈঠকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো, বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেনের পদত্যাগ। তিনি সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে এখনো তার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি বিসিবি সভাপতি। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে শনিবারের সভায়। ফলে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই নির্বাচন নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটির কার্যক্রম এখনো চলমান। ইতিমধ্যে বিসিবির বেশ কয়েক জন পরিচালক সেই কমিটির সামনে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।
তবে এই সংবেদনশীল বিষয়টি বোর্ড সভায় আলোচনায় আসবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। শনিবারের এই বোর্ড সভা মূলত সংকটময় সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্ল্যাটফরম। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট, ঢাকা লিগ, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সিরিজ মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি বিসিবি।